রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পিতা-পুত্রের এজেন্ট ব্যবসায় নিঃস্ব দুই শতাধিক গ্রাহক : থানায় অভিযোগ

ব্যুরো চীফ, বরিশাল

বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের কাগাশুরা বাজারে ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের একজন এজেন্টের বিরুদ্ধে গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাতের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার একই উপজেলার তালতলী ডাচ্ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকের মালিকের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে ২১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এজেন্ট ব্যবসায়ীর বাড়ি ঘেরাও করে তালা ঝুলিয়ে মালিককে অবরুদ্ধ করে রাখেন গ্রাহকরা। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে রাতে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এজেন্ট ব্যবসায়ী কবির ভূঁইয়াকে উদ্ধার করে।

তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানার ওসি নাজমুল নিশাত বলেন, “এ ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে এগারোটার দিকে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অভিযোগ রয়েছে—সদর উপজেলার তালতলী ডাচ্ বাংলা এজেন্ট ব্যাংক ব্যবসায়ী কবির ভূঁইয়া কাগাশুরা ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যবসায়ী নাঈমের বাবা। পিতা-পুত্রের যোগসাজশে ওইসব এলাকার দুই শতাধিক গ্রাহকের প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ করেন গ্রাহকরা।

এ ঘটনায় সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরতের দাবিতে কবির ভূঁইয়ার বাড়ি ঘেরাও করে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন, “আমরা ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় টাকা জমা দেওয়ার পরও কবির ভূঁইয়া ব্যাংকে জমা না রেখে কৌশলে তাদের মালিকানাধীন মাল্টিপারপাস সমিতিতে জমা করেছে। বিষয়টি জানতে পেরে টাকা ফেরত চাইলে নানা তালবাহানা শুরু হয়।”

অভিযোগে আরও জানা গেছে, কাগাশুরা বাজার ও তালতলী বাজারে কবির ভূঁইয়া ও তার ছেলে নাঈম ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করছিলেন। গ্রামের সাধারণ মানুষ তাদের আস্থার জায়গা ভেবে টাকা জমা রাখতেন, ডিপিএস করতেন, বিদ্যুৎ বিল দিতেন এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন করতেন।

কয়েক মাস আগে গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন করতে এলে বাধে বিপত্তি। টাকা না দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান নাঈম। পরে স্থানীয় প্রভাবশালী ও ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং দুই মাস সময় নেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।

সূত্রে জানা গেছে, তালতলী বাজারের এজেন্ট ব্যাংকে গ্রাহকরা টাকা তুলতে গেলে কবির ভূঁইয়া নানা অজুহাতে টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান।

অসংখ্য গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, এজেন্ট ব্যবসায়ী কবির ব্যাংকে টাকা জমা না দিয়ে তাদের মাল্টিপারপাস সমিতিতে জমা করেছে এবং একটি সমিতির বই ধরিয়ে দিয়েছে।

ভুক্তভোগী এক গ্রাহক বলেন, “আমি কবির ভূঁইয়ার কাছে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জমা রেখেছি। এখন সে আমার টাকা না দিয়ে প্রতিদিন ঘোরাচ্ছে। তাই আমরা সবাই তার বাড়িতে এসেছি টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য।”

অন্য এক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, “আমি ৪ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে তারা সমিতিতে জমা করেছে। পরে আমি টাকা তুলতে চাইলে কবির ভূঁইয়া আমাকে ৪ লাখ টাকার একটি চেক দেয়। কিন্তু তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় সেই চেক দিয়ে টাকা তুলতে পারিনি।”

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কবির ভূঁইয়া বলেন, “সকল গ্রাহকের টাকা অল্প সময়ের মধ্যে আমার বাড়ি বিক্রি করে পরিশোধ করে দেব।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ