ব্যুরো চীফ, বরিশাল
অস্ট্রিয়া প্রবাসী এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে মারধর ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় একজনকে আটক করে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাই সাইদুল ইসলাম থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন।
বুধবার (১২ নভেম্বর) দিবাগত রাতে লিখিত অভিযোগপ্রাপ্তির সত্যতা স্বীকার করে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে একজন আসামিকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে। পাশাপাশি লিখিত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এজাহারে নগরীর বাসিন্দা প্রবাসীর ভাই সাইদুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, তার ছোট ভাই মুরাদুল ইসলাম (৩০) অস্ট্রিয়া প্রবাসী। গত ৫ নভেম্বর তিনি ছুটিতে দেশে আসেন। এর আগে মুরাদুলের সঙ্গে দীর্ঘ ১৪ বছরের গভীর বন্ধুত্বের কারণে প্রতারণার মাধ্যমে বাউফলের সূর্যমনি ইউনিয়নের বাসিন্দা বশির উদ্দিনের দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। ওই ঘটনায় প্রবাসী মুরাদুলের ভাই সাইদুল ইসলাম ছোট ভাইয়ের পক্ষে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
বাদী সাইদুল ইসলামের দাবি—সেই মামলা দায়েরের পর থেকে বশির উদ্দিন ক্ষুব্ধ হয়ে তার ভাই মুরাদুল ইসলামকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে পূর্বপরিচিত রিয়াদ হোসেন (২৩) ফোনে মুরাদুল ইসলামকে দেখা করার কথা বলে রূপাতলীস্থ সোনারগাঁও টেক্সটাইলের সামনে ডেকে নেন।
প্রবাসী মুরাদুল সেখানে পৌঁছালে রিয়াদ তাকে শাওন পাম্পের বিপরীতে চৌধুরী ভিলা নামক একটি টিনসেড ভবনে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষমান ছিল সুমন, লোকমান, সজল, রেজাউল, মাহি ও তাদের আরও ২–৩ জন সহযোগী। তারা দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে প্রবাসী মুরাদুলকে হত্যার ভয় দেখিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
বাদী সাইদুল এজাহারে আরও উল্লেখ করেছেন—আসামিরা একজন অজ্ঞাত প্রতিবন্ধী ছেলেকে এনে মারধর করে মুরাদুলকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করে এবং ঘটনাটি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। তারা ওই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে প্রবাসী মুরাদুলের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
এ সময় আসামিরা মুরাদুলের সঙ্গে থাকা নগদ ২৫ হাজার টাকা, একটি ডায়মন্ড রিং ও একটি রুপার ব্রেসলেট ছিনিয়ে নেয়। পরে মুক্তিপণের অর্থ আদায়ের জন্য তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে (০১৭৩৩-২৪০১১২) নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
প্রাণের ভয়ে বাদী সাইদুল ইসলামের শ্যালক মো. রানা ওই নম্বরে পাঁচ হাজার টাকা প্রেরণ করেন। তারপরও আসামিরা মুরাদুলকে অবরুদ্ধ অবস্থায় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। পরে তারা মুরাদুলকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিপণের টাকা নিতে তার বাড়িতে আসে।
তখন ৩ ও ৪ নম্বর আসামি (সুমন ও লোকমান) রিকশায় করে বাসায় আসলে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় বাদী সাইদুল ইসলাম ধাওয়া করে আসামি লোকমানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ সময় কৌশলে সুমন পালিয়ে যায়।
বাদী সাইদুল ইসলাম বলেন, “আমার ভাই অস্ট্রিয়া প্রবাসী। তার একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু বশির উদ্দিন টাকা আত্মসাতের মামলার প্রতিশোধ নিতে ভাড়াটে লোকজন দিয়ে কৌশলে অপহরণ করে হামলা চালিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করছিল।”








