ব্যুরো চিফ, বরিশাল
বংশের কেউ ব্যাংকার, কেউ সরকারি বা বেসরকারি চাকরিজীবী। কর্মস্থলের কারণে অনেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকায় আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে বহু বছর দেখা হয় না। গ্রামে বসবাসকারীদের সঙ্গেও চলে আসছে ভুল বোঝাবুঝি।
ফলে আত্মীয়দের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধন শিথিল হয়ে হিংসা, রেষারেষি, দূরত্ব ও বিভেদ বাড়ছিল। এসব সংকট দূর করতেই আয়োজন করা হয় বংশীয় মিলনমেলা।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পিঙ্গলাকাঠী হাজীপাড়া এলাকায় ঐতিহ্যবাহী হাজী গোষ্ঠী ফোরামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই অনন্য অনুষ্ঠান। এতে হাজী বংশের সদস্যরা পুরনো সব ভেদাভেদ ভুলে একত্রিত হয়ে মিলনমেলা, পরিচিতি সভা এবং প্রয়াতদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া-মোনাজাত করেন।
সবশেষে আয়োজন করা হয় নৈশভোজ। পুরো অনুষ্ঠানে ছিল সৌহার্দ্য, ভালোবাসা এবং মিলনের আবহ।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হাজী বংশের কৃতী সন্তান, বেসরকারি ক্রান্তি অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন,
“বংশীয় মিলনমেলা কেবল একটি উৎসব নয়, এটি সম্পর্ক জোরদারের একটি উপলক্ষ। এখানে একে অপরের সঙ্গে দেখা হওয়ার, ভুল বোঝাবুঝি দূর করার এবং পুরোনো সম্পর্ককে নতুনভাবে জাগিয়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের মিলনমেলায় সবাই একসঙ্গে বসে খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা ও স্মৃতিচারণের মাধ্যমে সম্পর্কের বন্ধন মজবুত হয়। অনেক ভুল বোঝাবুঝি এখানেই মিটে যায়।”
অনুষ্ঠানের সভাপতি আলহাজ মো. মকবুল হোসেন বলেন,
“যদি সমাজে প্রতিটি পরিবার বা বংশ বছরে অন্তত একবার এমন মিলনমেলার আয়োজন করে, তাহলে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।”
অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার আলহাজ মাওলানা আব্দুর রশিদ হাওলাদার, তিনি বলেন,
“এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ছোটখাটো ঝগড়া, মতবিরোধ ও ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে। পাশাপাশি সমাজে সহনশীলতা, ভালোবাসা ও সহানুভূতির জায়গা তৈরি হয়।”
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আলহাজ ডা. মহাসীন বলেন,
“বংশীয় মিলনমেলা শুধু আনন্দের আয়োজন নয়, এটি এক সামাজিক দায়িত্ব। প্রতিটি পরিবার ও গোষ্ঠী যদি এমন উদ্যোগ নেয়, সমাজ হবে শান্তিময়, সৌহার্দ্যপূর্ণ এবং মিলনের অপূর্ব উদাহরণ।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন গৌরনদী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম জহির, সাংবাদিক আবু সাঈদ খন্দকার, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আলহাজ মাওলানা সামসুল হক হাওলাদার, ঢাকার ব্যবসায়ী আলহাজ মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রকৌশলী আলহাজ মো. আলমগীর হোসাইন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ মো. আলাউদ্দিন, মো. মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, জহিরুল ইসলাম, নুরে আলম সিদ্দিকী পলাশসহ অনেকে।
দোয়া-মোনাজাত শেষে হাজী বংশের প্রয়াতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে নৈশভোজ পরিবেশন করা হয়।








