ব্যুরো চীফ, বরিশাল:
ক্লাসরুম সংকটের কারণে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা দখল করেছে নির্মাণাধীন নভোথিয়েটার ও বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) ভবন।
বুধবার (২৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এই দুটি স্থাপনা দখল করেন শিক্ষার্থীরা। নির্মাণের চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও এখনো ভবনগুলো হস্তান্তর করেনি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। এ সময় শিক্ষার্থীরা নভোথিয়েটার ভবনের গেটে ব্যানার টাঙিয়ে দেন, যেখানে লেখা ছিল— “অ্যাকাডেমিক ভবন-৩”।
এর আগে শিক্ষার্থীরা টানা চতুর্থ দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অবকাঠামোগত সংকট নিরসন, ক্যাম্পাসের পরিধি বৃদ্ধি এবং নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা এক মাস ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। কিন্তু এখনো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তাই তারা বাধ্য হয়ে এই দুটি স্থাপনা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন এবং ঘোষণা দিয়েছেন ভবনগুলো এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
এর আগে মহাসড়ক অবরোধ শেষে শিক্ষার্থীরা স্থাপনা দুটি দখলের ঘোষণা দেন। পরে ছাত্রাবাস ও পাশের মেসে থাকা শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়ে মিছিলসহকারে নভোথিয়েটার ও ভোলা রোডসংলগ্ন বিটাক ভবন দখল নেন।

ববি শিক্ষার্থী মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে গণস্বাক্ষর, মানববন্ধন, বিক্ষোভ কর্মসূচি ও মহাসড়ক অবরোধ করেও আমাদের যৌক্তিক দাবিতে কেউ কর্ণপাত করেনি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে স্থাপনা দুটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি অনুষদের ২৫টি বিভাগে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। অথচ পাঠদানের জন্য শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র ৩৬টি। শ্রেণিকক্ষের সংকটে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের খোলা মাঠে ক্লাস করতে হচ্ছে। শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বেশিরভাগ বিভাগেই সেশনজট দিন দিন বাড়ছে।
বরিশাল বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”








