ব্যুরো চিফ, বরিশাল
বরিশালের মুলাদী সরকারি কলেজে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলাকালীন বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা এগারোটার দিকে ছাত্রদলের হামলায় কমপক্ষে ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ছাত্রদল নেতাদের দাবি, শিবিরের হামলায় তাদের পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
গুরুতর আহত ছাত্রশিবিরের মুলাদী উপজেলা শাখার সভাপতি মো. হামিম হোসেন, শিবির কর্মী মো. মান্না, মো. বায়েজিদ হোসেন, মো. আবদুল্লাহ এবং রাকিব হোসেনকে দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতদের দাবি, বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটার দিকে মুলাদী সরকারি কলেজে শিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলাকালীন সময় ছাত্রদলের একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের বরিশাল জেলা সভাপতি মো. আকবর হোসেন ও জেলা সেক্রেটারি সাইয়েদ আহমেদ জানিয়েছেন, নবীনবরণ অনুষ্ঠানের দাওয়াতি কাজ চলাকালীন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। হামলায় ছাত্রশিবিরের কমপক্ষে ২০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। যার মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর।
আহতদের বরাত দিয়ে তারা বলেন, মুলাদী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঢালী, সদস্য সচিব বেল্লাল হোসেন, ছাত্রদলের মুলাদী সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি রিফাত মল্লিক ও সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রদলের প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মী এ হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য তারা প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান।
মুলাদী সরকারি কলেজ শাখার ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. সৌরভ হোসেন বলেন, বুধবার গভীর রাতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শিবিরের উপজেলা কার্যালয় এবং অর্থসম্পাদকের বাসায় হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওই হামলাকারীরা নবীনবরণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সভা চলাকালীন অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ব্যাপারে মুলাদী উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন ঢালী বলেন, ডাকসু নির্বাচনের পর থেকে পুরো কলেজ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে শিবিরের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে শিবিরের কর্মীরা তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করলে তার প্রতিবাদ করে ছাত্রদলের মুলাদী কলেজ শাখার নেতাকর্মীরা।
এ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে শিবিরের নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ছাত্রদলের কমপক্ষে পাঁচজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। মহিউদ্দিন ঢালী আরও বলেন, শিবিরের উপজেলা পর্যায়ে বর্তমান যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
হামলার পরপরই মুলাদী উপজেলা সদরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। থানা পুলিশ হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে জানিয়ে মুলাদী থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, মুলাদী উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. আবু সালেহ হাসপাতালে এসে আহতদের খোঁজখবর নিয়েছেন। তারা এ হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।








