ব্যুরো চিফ, বরিশাল
ব্যস্ততম ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের নগরীর কাশিপুর পোস্ট অফিস থেকে গড়িয়ারপাড় রেইন্টিতলা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নেই কোনো উদ্যোগ। এজন্য বেপরোয়া হয়ে ওঠা দখলদাররা মহাসড়ক ঘেঁষে এখন নির্মাণ করেছেন দেয়াল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি বরিশাল সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও তা ছিল কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায়। অথচ এ উচ্ছেদ অভিযানের দায়িত্ব ছিল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সওজ বিভাগের কিছু ব্যক্তির রহস্যজনক ভূমিকার কারণে দীর্ঘদিন কোনো উচ্ছেদ অভিযান হয়নি। ফলে দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের কাশিপুর চৌমাথা বাজার সংলগ্ন জননী অক্সিজেন সপ দখল করতে করতে এখন মহাসড়ক ঘেঁষে নিরাপত্তা দেয়াল নির্মাণ করেছে।
এ রুটে প্রতিদিন চলাচল করা একাধিক মোটরসাইকেল চালক অভিযোগ করে বলেন, জননী অক্সিজেন সপের দেয়াল মহাসড়ক ঘেঁষে থাকায় ফুটপাত একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বড় গাড়ির চাপে তাদের মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অথচ বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।
একাধিক পরিবহন চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—আমাদের মাথায়ই আসে না, একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে মহাসড়ক ঘেঁষে দেয়াল নির্মাণ করতে পারে! সওজ কর্মকর্তারা এ বিষয়টি কীভাবে মেনে নিয়েছেন?
তারা আরও বলেন, এমনিতেই মহাসড়কে ছোট-বড় যানবাহনের চাপ সবসময় থাকে। তার ওপর দেয়াল ঘেঁষে চলাচল করায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ও যানজট লেগেই থাকে।
পরিবহন চালকরা দাবি করেন, শুধু জননী অক্সিজেন সপ-ই নয়, জরুরি ভিত্তিতে কাশিপুর পোস্ট অফিস থেকে গড়িয়ারপাড় রেইন্টিতলা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। এজন্য তারা সওজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে সওজের জায়গায় গড়ে ওঠা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন মালিক দাবি করেন—স্থাপনা নির্মাণে তাদের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে।
এ বিষয়ে সওজ বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান—জনবল সংকটের কারণে অনেক এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে, এ কাজ শেষে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযান পরিচালনা করা হবে।








