,

বরিশালে মানহীন রেস্টুরেন্টের ছড়াছড়ি: ভোক্তারা প্রতারিত

ব্যুরো চিফ, বরিশাল

প্রশাসনের সঠিক তদারকির অভাবে বরিশাল নগরীতে মানহীন চাইনিজ রেস্টুরেন্টের বিস্তার ঘটেছে, ফলে প্রতিনিয়ত ভোক্তারা মানসম্মত খাবার না পেয়ে প্রতারিত হচ্ছেন। এসব রেস্টুরেন্টের অধিকাংশেই অতিরিক্ত দাম, পুরনো তেল ও সস দিয়ে বাসি মাংস ও চিংড়ি ব্যবহার করে মানহীন খাবার পরিবেশনের অভিযোগ থাকলেও বিষয়গুলো দেখার যেন কেউ নেই।

নগরীর হাসপাতাল রোডের সিলভার স্পুন রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে ক্রেতা মহিউদ্দিন বলেন, রেস্টুরেন্টে খাবারের দাম অন্যদের তুলনায় বেশি। ক্রেতা কম থাকায় এক পিস মাংস কেটে তা দিয়ে দুই-তিনটি খাবার তৈরি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়।

তিনি আরও জানান, চিকেন ফ্রাইয়ের জন্য কাটা লেগ পিস বা বুকের মাংস থেকে সলিড মাংস কেটে তা স্যুপে ও নুডলসে ব্যবহার করা হয়। এতে ফ্রাই ছোট হয়ে যায় ও মাংস কম থাকে। মুরগির পাখনা ব্যবহার করে ‘মাসালা চিকেন’ তৈরি করা হয়।

তিনি বলেন, “ক্যাসিনো সালাদে কাজুবাদামসহ বিভিন্ন উপাদান দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয় চিনাবাদাম, শসা, গাজর আর সামান্য চিকেন। সস্তায় কেনা গন্ধযুক্ত চাষের চিংড়ি ব্যবহার করে ফ্রাইসহ বিভিন্ন খাবার পরিবেশন করেন রেস্টুরেন্ট মালিক সেন্টু মিয়া।”

আরিফুর রহমান নামে আরেক ক্রেতা পুলিশ লাইনস এলাকার রাস্টিক রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে বলেন, “এখানে অন্য রেস্টুরেন্টের তুলনায় তিনগুণ দাম রাখা হয়। খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। রাইস, চিকেন ফ্রাই, থাই স্যুপসহ কাবাব আইটেম মানের তুলনায় অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়।”

একই অবস্থা নগরীর বগুড়া রোডের আড়ং রেস্টুরেন্ট শাখা, বটতলার মুভিদা রেস্টুরেন্ট এবং পুলিশ লাইনের সিনামন রেস্টুরেন্টে। প্রতিটি রেস্টুরেন্টেই খাবারে প্রচুর সস ব্যবহার করা হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

বরিশালের বাসিন্দা চিকিৎসক ডা. আল আমিন বলেন, “স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ক্ষেত্রে ঘরের খাবারের বিকল্প নেই। পুরনো তেল বা মসলা দিয়ে রান্না করা খাবার স্বাস্থ্যকর নয়। প্রোটিনজাতীয় খাবার ফ্রিজে দীর্ঘদিন রাখলে তা ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকে আক্রান্ত হয়, এমনকি দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে।”

ভোক্তা জিয়াউর রহমান বলেন, “হোটেলের জুসবারেও একই অবস্থা। প্রতিটি জুসবারেই ফ্লেভার মিশিয়ে জুস বিক্রি হয়। আম, মালটা বা ড্রাগন ফল ব্যবহার করলেও তা খুব অল্প পরিমাণে দেওয়া হয়। এসব রেস্টুরেন্টের কাগজপত্র নবায়ন করা আছে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ আছে।”

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ রেস্টুরেন্টের সিভিল ডিফেন্স ছাড়পত্র, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা লাইসেন্স, জেলা প্রশাসক থেকে নিবন্ধন, পর্যটন কর্পোরেশনের লাইসেন্স, ভ্যাট, স্যানিটারি ফায়ার সনদ ও ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করা নেই। কিছু রেস্টুরেন্টের তো কোনো লাইসেন্সই নেই।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস বলেন, “কোনো ভোক্তা প্রতারিত হয়ে অভিযোগ করলে প্রমাণ সাপেক্ষে রেস্টুরেন্ট মালিককে জরিমানা বা জেল দেওয়া হবে। অন্যান্য বিষয়েও নজরদারি চলবে।”

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। তবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই শিগগিরই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ