ব্যুরো চীফ, বরিশাল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশালের ২১টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীদের শক্ত অবস্থান এখন প্রায় সব এলাকায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনে ভুল কিংবা কতিপয় নেতার সমর্থকদের কারণে ভোটারদের আস্থা ফেরানো না গেলে ‘ধানের শীষ’-এর জয় পাওয়া কঠিন হবে। দলের কিছু নেতাও বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেছেন।
সেক্ষেত্রে প্রার্থী নির্বাচনের প্রশ্নে ‘ক্লিন ইমেজ’ ও দলের দুর্দীনের ত্যাগী, নির্যাতিত ও কারাবরণকারী নেতাদের সঠিক মূল্যায়ন করা হলে ভোটারদের আস্থা ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি যাদের কারণে দলের প্রতি ভোটারদের আস্থা হারাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভাগের প্রবেশদ্বার বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপিতে এবারও আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান। ইতোমধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনসহ সর্বস্তরের ভোটারদের কাছে ‘ক্লিন ইমেজ’ প্রার্থী হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানকে নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-১ আসনে গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী—জহির উদ্দিন স্বপন, আকন কুদ্দুসুর রহমান ও অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল। অন্যদিকে, আসনটির আগৈলঝাড়া উপজেলার একমাত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান।
আগৈলঝাড়া উপজেলার একমাত্র প্রার্থী হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিগত ওয়ান ইলেভেন-পরবর্তী বিএনপির চরম দুর্দীনে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করায় গৌরনদীতেও তার (সোবহান) রয়েছে বিশাল জনসমর্থন।
এছাড়াও বিএনপির দুর্দীনে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে একাধিকবার হামলা ও অসংখ্য মামলায় কারাভোগ করেও তিনি রাজপথে সর্বদা সরব ছিলেন। ফলে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সর্বস্তরের ভোটারদের কাছে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে।
সূত্রমতে, বিগত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক পেলেও দলের এক নেতার মামলায় নির্বাচনের পূর্বে আদালতের বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে নির্বাচনের মাত্র সাত দিন আগে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান। তবুও সেই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি পেয়েছিলেন প্রায় ৭৪ হাজার ভোট।
সার্বিক বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেন, “আমি গৌরনদী ও আগৈলঝাড়াবাসীর একজন সেবক হতে চাই। দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে এবং আমি এমপি নির্বাচিত হলে বরিশাল-১ আসনে কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা দখলবাজি হতে দেব না।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেখানো পথে এ আসনের প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।”
এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে হাফেজ মাওলানা মো. কামরুল ইসলাম খানকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মো. রাসেল সরদার মেহেদী, এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনয়ন পেয়েছেন মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।








