ব্যুরো চীফ, বরিশাল:
বিএনপির নাম ব্যবহার করে একটি ফিলিং স্টেশনের পরিচালকের কাছে ডাকযোগে চিঠি পাঠিয়ে প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চিঠিতে কাউকে বিষয়টি জানালে হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে গৌরনদী উপজেলার আশোকাঠী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. জাহিদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২৫ আগস্ট দুপুরে ডাকযোগে তার কাছে এই চিঠিটি আসে।
চিঠির ভাষা হুবাহু তুলে ধরা হলো:
“পরিচালক আশোকাঠী ফিলিং স্টেশন (তৈল পাম্প)। আমি দলীয় কাজ করি। বিএনপি দলের সাথে থাকি। ছোট-বড় সব মিটিংয়ে আমি হাজির থাকি। আমার অনেক খরচ, একটু সহযোগিতা করবেন। প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা করে দেবেন। টাকা দিতে ভুল করবেন না। অন্য কারো কাছে বলবেন না। আমাকে ডাক দিলেই পাবেন। আমি বাড়ি থাকি। টাকা না দিলে ভুল করবেন। অন্য কাউকে ভাগ বসাবেন না।
আমি হলাম-মোঃ বেল্লাল হাওলাদার, পিতা মৃত আঃ রব হাওলাদার, গ্রাম-দক্ষিণ নাঠৈ, পোঃ নাঠৈ, থানা-গৌরনদী, জেলা-বরিশাল।”
জাহিদ হোসেন আরও বলেন, চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি ফিলিং স্টেশনের মালিক পক্ষকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় কর্মরত স্টাফরা কিছুটা চিন্তিত রয়েছেন। তবে চিঠিতে উল্লেখিত ঠিকানার খোঁজ নিয়ে ওই নামের কাউকে পাওয়া যায়নি।
আশোকাঠী ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, এখনও কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব বলেন, “অজ্ঞাতনামা দুস্কৃতকারী বা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কেউ বিএনপির নাম ব্যবহার করে বদনাম রটানোর জন্য এমন কাজের সাথে জড়িত থাকতে পারে। প্রকৃতপক্ষে গৌরনদীর কোনো বিএনপির নেতা বা কর্মী এ ধরনের কাজের সাথে জড়িত নয়।”
তিনি আরও বলেন, “যদি কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় যে আমাদের নেতাকর্মী বা সমর্থকরা এর সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।”








