ব্যুরো চীফ, বরিশাল:
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেছেন, গণতন্ত্র সুসংহত ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিএনপির নিরলস প্রচেষ্টা এবং উদ্যোগের কারণেই দলটি দেশের মানুষের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার নেতাকর্মীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় তিনি আরও বলেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার দিন। ১৯৭৮ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
তিনি বলেন, “বাকশালী ব্যবস্থায় গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল একচ্ছত্র ক্ষমতার লোভে। সেই মৃত গণতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। শহীদ জিয়ার হাতে গড়া বিএনপি দেশের ইতিহাসে বারবার সকলের অংশগ্রহণমূলক সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে জনগণের কল্যাণে কাজ করেছে।”
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে উল্লেখ করে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সোবহান বলেন, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন। আশির দশকে দীর্ঘ ৯ বছরের সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির আপোষহীন ভূমিকা বাংলাদেশের ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে আছে।”
তিনি আরও বলেন, “সেই অগ্রণী ভূমিকার জন্যই দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছিল। ১৯৯১ সালে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করে, যার নেতৃত্বে ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতীক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিকাশ, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ও গণমানুষের স্বার্থে বিএনপির অবদান সর্বদা জনগণ দ্বারা সমাদৃত।”
প্রসঙ্গত, ওয়ান ইলেভেন-পরবর্তী সময় থেকে রাজপথে দলের প্রতিটি কর্মসূচি পালনে সক্রিয় থাকার কারণে বারবার হামলা ও মামলার শিকার হয়ে কারাভোগ করেছেন ইঞ্জিনিয়ার সোবহান। তিনি বিএনপির জন্মলগ্ন থেকে শহীদ নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, “দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দমন-পীড়নের শিকার গণতন্ত্রকে নির্বাসন থেকে ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে। আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারলেই শহীদদের আত্মদান সার্থক হবে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভলগ্নে বাংলাদেশকে একটি শান্তিময়, নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে গুম, গুপ্তহত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নারী ও শিশুদের ওপর পৈশাচিকতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও টাকা পাচারের মতো বিভীষিকা আর কখনোই ফিরে আসবে না।”
তিনি জানান, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য তিনি ৩১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।
বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টায় গৌরনদী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আলোচনা সভা ও আনন্দ র্যালির আয়োজন করা হয়েছে। টরকী বন্দরে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং সবাইকে সময়মতো অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।









