শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভাই বিএনপি নেতা তাই..

ব্যুরো চীফ, বরিশাল

বড় ভাই বিএনপির প্রভাবশালী নেতা। তাই থানা পুলিশের বাধা ও নিষেধ অমান্য করে ছোট ভাই তার লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক সরকারি বন্দোবস্তের জমি দখল করে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপায়ন্তর না দেখে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনাটি বরিশালের হিজলা উপজেলার খুন্না গোবিন্দপুর গ্রামের।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওই গ্রামের বাসিন্দা মৃত হারুন-অর রশিদ দেওয়ানের ছেলে আবু রায়হান অভিযোগ করেন—তার বাবার নামে সরকারি বন্দোবস্ত হওয়া জমি নদীতে বিলীন হওয়ার পর বর্তমান সরকারি জমিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন।

আবু রায়হান আরও জানান, ২০০২ সালে বরিশাল জেলা প্রশাসকের বরাবর সরকারি সম্পত্তি বন্দোবস্তের আবেদন করার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিন তদন্ত করে হারুন-অর রশিদের দখলে থাকা দুই একর জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার জন্য প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরই মধ্যে হারুন-অর রশিদের মৃত্যুর পর তার ছেলে আবু রায়হান পরিবার নিয়ে ওই জমিতে বসবাস করে আসছেন।

রায়হান বলেন, ২০১১ সালে জনৈক নারায়ণ দাসের নামে জমিটি বন্দোবস্ত হয়, যা নারায়ণ দাস ও তার পরিবার জানতেন না। ২০১২ সালে নারায়ণ দাস মৃত্যুবরণ করেন। ঢাকায় বসবাসরত নারায়ণ দাসের ছেলে নরেন দাস জানিয়েছেন—ওই জমি তার বাবার নামে হয়েছে তা তিনি কিছুদিন আগে জেনেছেন। অপরদিকে জমির মালিকানা নিয়ে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে।

আবু রায়হান অভিযোগ করে বলেন, অতিসম্প্রতি ওই জমির ওপর লোভের দৃষ্টি পড়ে উপজেলার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন খোকনের ভাই শহীদ দপ্তরীর। তিনি (শহীদ) নরেন দাসকে ফোন করে জানান, জমিটি দখল নিতে পারলে তাকে (নরেন) কিছু টাকা দেওয়া হবে। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপি নেতা ভাইয়ের প্রভাব বিস্তার করে শহীদ দপ্তরীর নেতৃত্বে তার ১০/১২ জন সহযোগী ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রকাশ্যে আবু রায়হানের দখলে থাকা সম্পত্তির ওপর অস্থায়ী ঘর নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

খবর পেয়ে হিজলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অস্থায়ী ঘর নির্মাণে বাধা প্রদান করলেও পুলিশের নির্দেশ অমান্য করেই ঘর নির্মাণ করেন শহীদ ও তার লোকজন।

বিএনপি নেতা ভাইয়ের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ অস্বীকার করে বৃহস্পতিবার সকালে শহীদ দপ্তরী বলেন—ওই জমি নারায়ণ দাসের কাছ থেকে আমরা পাঁচজন মিলে ক্রয় করেছি। সেই সূত্রে আমরা জমি দখল করেছি। সরকারি বন্দোবস্তের জমি ক্রয়-বিক্রয় অবৈধ—এ বিষয়টি জানেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে শহীদ দপ্তরী বলেন—সারাদেশেই এসব জমি কেনাবেচা চলে। এমনকি এখানেও ৭৯টি জমি বিক্রি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হিজলা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন খোকন বলেন—আমি ঢাকায় অবস্থান করায় বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ঘটনার সাথে যেই জড়িত থাকুক না কেন খোঁজখবর নিয়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ