ব্যুরো চীফ, বরিশাল
মা ইলিশ রক্ষায় শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে এ সময়ে যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে মাছ ধরা রোধ করাই মৎস্য অধিদপ্তরের মূল উদ্দেশ্য।
তবে ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ৮২ কিলোমিটার মেঘনা নদী নিয়ন্ত্রণে এবার উড়ানো হয়েছে ড্রোন প্রযুক্তি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশাল মেঘনা নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে নৌ-পুলিশ ও হিজলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উদ্যোগে ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি করা হবে। মা ইলিশ নিধনকারীদের ধরতে মেঘনা নদীতে নজরদারির জন্য চারটি ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। ড্রোন যেখানে ইলিশ ধরার তথ্য দেবে, সেখানে দ্রুত স্পিডবোট নিয়ে অভিযান চালানো হবে। এছাড়া অভিযান পরিচালনার জন্য জেলায় ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জনকণ্ঠকে বলেন, এবার দিনে ও রাতে সমানভাবে তাদের অভিযান চলবে। মেঘনার ৮২ কিলোমিটার নিয়ন্ত্রণে কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা যৌথ অভিযানে থাকবে। পাশাপাশি অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত থাকবেন।
মোহাম্মদ আলম আরও বলেন, বিশাল মেঘনা নদী নজরে রাখার জন্য এবার ড্রোন দিয়ে পাহারা দেওয়া হবে। চারটি ড্রোন বসিয়ে যেখানে ইলিশ ধরা হবে সেখানে স্পিডবোট নিয়ে অভিযান চালানো হবে।
মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর সানি বলেন, আমরা মা ইলিশ রক্ষায় সচেতনতামূলক সভা করেছি। দুটি স্পিডবোট দিয়ে অন্য বাহিনীর সাথে যৌথ অভিযান চলবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান চালানো হবে। থাকবেন তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট।
বরিশাল নৌ-পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ইমরান হোসেন মোল্লা বলেন, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় ড্রোন দিয়ে নজর রাখা হবে।
অপরদিকে এতোসব কঠিন পদক্ষেপের কারণে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বরিশাল জেলার ৭৯ হাজার জেলে। তারা অভিযোগ করে বলেন, সময়মতো এবং পর্যাপ্ত চাল তারা পাচ্ছেন না। যেকারণে মহাজনদের দাদনের চাপ রয়েছে তাদের ওপর।
বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ জানিয়েছেন, ইলিশসমৃদ্ধ ৫৯টি ইউনিয়নের টাস্কফোর্সের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে এবং ৬৬ হাজার ৫২৪ জন জেলে পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।
মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার জেলে সুলতান আহমেদ বলেন, ২৫ কেজি চাল দিয়ে ২২ দিন সংসার চালানো কঠিন। এই বেকার সময়ে সরকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা উচিত। বরিশাল সদর উপজেলার জেলে ইউনুস সরদার বলেন, আমরা আইন মানতে প্রস্তুত কিন্তু এই সময়ে জীবনধারণের জন্য সরকারের পর্যাপ্ত খাদ্য সরবরাহ করা উচিত।
ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানিয়েছেন, এতো চেষ্টার পরেও জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় সফলতা আসছে না। তিনি আরও জানান, গত বছর প্রায় ৪০ হাজার টন ইলিশ কম উৎপাদন হয়েছিল এবং এবারও উৎপাদন কমার আশঙ্কা রয়েছে।
সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) বরিশাল জেলার সাবেক সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা জানিয়েছেন—সরকারের নিষেধাজ্ঞার সময় অভিযানে কোনো কার্ডধারী জেলে আটক হলে তার কার্ড বাতিলসহ কার্ড অনুযায়ী অতীতে পাওয়া সরকারি বরাদ্দের চেয়ে দ্বিগুণ জরিমানা আদায় করা উচিত। পাশাপাশি মৌসুমী জেলেরা আটক হলে জামিন অযোগ্য কমপক্ষে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড নিশ্চিত করা গেলেই এ অভিযান স্বার্থক ও সফল হবে।








