বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রপ্তানি মূল্য বৃদ্ধিতে বিদেশে যাচ্ছে না পান

ব্যুরো চীফ, বরিশাল

রপ্তানি মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিদেশে যাচ্ছেনা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী মুখরোচক খাবার পান। একারণে বাংলাদেশে পানের বাজারে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না চাষীরা। ঋণগ্রস্ত হতাশ চাষীরা এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য আট দফা দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করেছেন।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ পান চাষী সমিতির বরিশালের গৌরনদী উপজেলা কমিটির আয়োজনে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পান চাষীদের রক্ষার জন্য পান রপ্তানি বৃদ্ধিসহ আট দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড ও উপজেলা চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পান চাষী সমিতির উপজেলা আহ্বায়ক মনির হোসেন সরদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে জাতীয় কৃষক ক্ষেত মজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার বলেন, “পান চাষীরা লাখ লাখ টাকা এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে পান চাষ করছেন। বর্তমানে বাজারে পানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চাষীরা ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না। পান রপ্তানি প্রায় বন্ধ হওয়ায় হঠাৎ করে পানের দাম কমে গেছে।”

জেলা সভাপতি অধ্যাপক জলিলুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পান রপ্তানি করে প্রতিবছর গড়ে দুই থেকে তিনশ’ কোটি টাকা আয় করা হতো। অথচ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।”

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও শুল্ক বিভাগের অবাস্তব সিদ্ধান্তের কারণে তিনি বলেন, “২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতি কেজি পানের রপ্তানি মূল্য ছিল এক ডলার। সেখানে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সেই পানের প্রতি কেজির রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ ডলার। ফলে বিদেশী ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে পান নিচ্ছেন না। এজন্য দেশে পানের বাজারে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না চাষীরা।”

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কৃষক ক্ষেত মজুর সমিতির জেলা কমিটির প্রচার সম্পাদক জাফর আহম্মেদ তালুকদার, পান চাষী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক নিমাই মণ্ডল, জেলার নেতা প্রফেসর মো. হারুন-অর রশিদসহ অন্যান্যরা। শেষে নেতৃবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আট দফা দাবিতে স্মারকলিপি পেশ করেন।

আট দফা দাবি:

  • পান রপ্তানিতে আরোপিত সকল বাধা দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
  • আপৎকালীন সময়ে দুর্গত চাষীদের কাছ থেকে এনজিও ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখতে হবে।
  • শুধুমাত্র পান চাষের ওপর নির্ভরশীল গরীব চাষীদের সরকারি ত্রাণের আওতায় এনে পূর্ণ সাহায্য দিতে হবে।
  • পান রপ্তানি কারকদের সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি চাষীকেও প্রণোদনা দিতে হবে।
  • পান চাষের উপকরণ—খৈল, সার, কিটনাশকসহ অন্যান্য জিনিসের দাম কমাতে হবে।
  • পান গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও সংরক্ষনাগার স্থাপন করতে হবে।
  • পান ভিত্তিক শিল্প স্থাপন করতে হবে।
  • চাষীদের জন্য পান বীমা চালু করতে হবে এবং জাতীয় পান বোর্ড গঠন করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ