বরিশাল ব্যুরো চীফ:
দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের চিকিৎসা সেবার প্রধান ভরসাস্থল বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালে সর্বসাধারণের জন্য উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা পেশ করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর।
বুধবার (২৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি এ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করেন। এসময় স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনের নেতাকর্মী, চিকিৎসক, নার্সসহ সর্বস্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিচালক জানান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহের মাধ্যমে রোগী সেবার মান উন্নয়নে ইতোমধ্যে অনেক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে এবং চলছে।
ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত উদ্যোগসমূহ
- কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা ১০টি মেশিন থেকে বাড়িয়ে ২০টি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২টি মেশিন হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আরও ৫টি মেশিন ক্রয় প্রক্রিয়াধীন।
- আউটডোর ও ইনডোর রোগীদের অধিকাংশ পরীক্ষাই (প্যাথলজি, রেডিওলজি, সিটি স্ক্যান, এন্ডোস্কপি, কোলনোস্কপি, ফাইব্রোস্ক্যান, কিডনি বায়োপসি ইত্যাদি) এখন হাসপাতালেই হচ্ছে।
- কার্ডিওলজি, রিউমাটোলজি, ইউরোলজি, ভাসকুলার সার্জারি, এন্ডোক্রাইনোলজি, বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি, নিউরোসার্জারি, হেমাটোলজি ইনডোরসহ বিভিন্ন নতুন সেবা চালু করা হয়েছে।
- গত আট মাসে নিমিউ অ্যান্ড টিসি’র কারিগরি টিম ৯৫টি অকেজো মেশিন মেরামত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—অ্যানেস্থেসিয়া মেশিন, আইসিইউ ভেন্টিলেটর, সাকশন মেশিন, ব্লাড ব্যাংক রেফ্রিজারেটর, ওটি টেবিল, ডেন্টাল ইউনিট, এক্স-রে মেশিনসহ নানা যন্ত্রপাতি। আরও ২০টি মেশিন সচল করার কাজ চলছে।
অবকাঠামোগত সংস্কার ও রোগীসেবা উন্নয়ন
- মেডিসিন বিভাগকে মূল ভবনে স্থানান্তর শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি বহির্বিভাগ চালু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব বহির্বিভাগ সেখানে স্থানান্তর করা হবে।
- নতুন আউটডোর ভবনে টিকিট কাউন্টার ও ডিসপেনসারি চালু হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিয়ন্ত্রণে ‘ভিজিটর কার্ড’ চালু করা হয়েছে।
- অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট উৎখাত করা হয়েছে। সরকারি সাতটি অ্যাম্বুলেন্স জরুরি বিভাগের সামনে রাখা হয়েছে এবং ভাড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
- হাসপাতালের পুরনো ট্রলি মেরামত ও নতুন ১০টি ট্রলি দেওয়া হয়েছে।
- সাতটি মনিটরিং টিম এবং অতিরিক্ত পাঁচটি টিম গঠন করে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।
- অনুমোদনের ভিত্তিতে ১০০টি সিলিং ফ্যান স্থাপন করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে।
- সিসিইউ ভবনের ৮৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন, সেপ্টেম্বরেই চালু হবে।
- শিশু ওয়ার্ডের ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন, সেপ্টেম্বরেই শেষ হবে।
- গাইনি ওটি ও বিশেষায়িত ওটি চালু হয়েছে, যেখানে মাইক্রোস্কোপ ব্যবহার করে নিউরোসার্জারি হচ্ছে।
- নতুনভাবে আধুনিক মানের মানসিক বিভাগ চালু করা হয়েছে।
- বহির্বিভাগে খাবার পানির ফিল্টার ও ট্যাংক মেরামত করা হয়েছে।
- হাসপাতালের ২২টি কেবিন আধুনিকায়নের কাজ চলছে; সেপ্টেম্বরের শেষে রোগীদের জন্য উন্মুক্ত হবে।
- টয়লেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য অস্থায়ীভাবে ৯০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পরিচালক একেএম মশিউল মুনীর বলেন, “রোগী সেবার মান উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য। ইতোমধ্যে অনেক পরিবর্তন হয়েছে, আগামী দিনে শেবামেক দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে আরও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।”








