ব্যুরো চীফ, বরিশাল
নিয়োগবিধি লঙ্ঘন করে দুইজন শ্রমিকদল নেতার প্রভাবে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ তিনজনকে নিয়োগ দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খণ্ডকালীন নিয়োগ পাওয়া তিনজনের মধ্যে দুইজনই শ্রমিকদল নেতার নিকট আত্মীয়। এ নিয়ে বোর্ডের অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মজুরি ভিত্তিক মাস্টার রোলে বরিশাল মহানগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের শ্যালিকার স্ত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা, জেলা শ্রমিকদল নেতা মহসিন আহমেদের ভাগ্নে কাওছার হোসেন এবং তাদের সুপারিশে কম্পিউটার অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে আজিজুল হককে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা বোর্ডের কয়েকজন কর্মচারী জানান, শ্রমিকদল নেতা শহীদুল ইসলাম ও মহসিন আহমেদ বোর্ডের শ্রমিক সংঘেরও নেতা। তাদের প্রভাবে অন্যান্য কর্মচারীরা এমনকি বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অপদস্থ হওয়ার শঙ্কায় থাকেন।
তাদের আরও অভিযোগ, শিক্ষা বোর্ডে চারজন সিনিয়র কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও মাস্টার রোলে শ্রমিকদল নেতাদের আত্মীয় ও অনুসারীদের অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রমতে, বিধি অনুসারে সরকারি যেকোনো নিয়োগে বহুল প্রচারিত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং নিয়োগ বোর্ড গঠন করা আবশ্যক। কিন্তু এসব কিছু না করেই শ্রমিকদল নেতাদের চাপে বিধি লঙ্ঘন করে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, বোর্ড সচিব পদায়ন নিয়ে মহানগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে বোর্ড চেয়ারম্যানকে একবার অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। এরপর থেকে তার হাতে অপদস্ত হওয়ার ভয়ে থাকেন বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বোর্ডের প্রতিটি কাজেই এসব শ্রমিক নেতা হস্তক্ষেপ করেন।
এ বিষয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর মো. আবদুস সালাম বলেন, এটি কোনো স্থায়ী নিয়োগ নয়। সরকারি বিধি অনুসারে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং কমিটি গঠন করা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন—এসব করা হয়নি। এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মহানগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম ও জেলা শ্রমিকদল নেতা মহসিন আহমেদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।








