ব্যুরো চীফ, বরিশাল
প্রতিপক্ষ ও তাদের ভাড়াটিয়া লোকজনের হামলা থেকে রেহাই পেতে সরকারি হাসপাতালের ওয়াশরুমে আত্মগোপন করেও রেহাই মেলেনি। হামলাকারীরা হাসপাতালের ওয়াশরুম থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর করে তিনজনকে আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উল্লেখিত অভিযোগ করেছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সুন্দরী গ্রামের কালাম ফকিরের ছেলে আরাফাত ফকির।
তিনি বলেন—জমির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে মঙ্গলবার বিকেলে একই গ্রামের লুৎফর শিকদারের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় তার মা নাসিমা বেগম ও লুৎফর শিকদার আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আরাফাত ফকির আরও জানান, হাসপাতালে তার মা নাসিমা বেগমের চিকিৎসার সময় ওই দিন সন্ধ্যায় বার্থী এলাকার কাইয়ুম খানের নেতৃত্বে ১০-১২ জন ব্যক্তি লুৎফর শিকদারের পক্ষালম্বন করে হাসপাতালে প্রবেশ করে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি (আরাফাত)সহ তার বাবা কালাম ফকির এবং দুই বোন আহত হন।
কালাম ফকিরের মেয়ে তানিয়া বেগম বলেন, হামলা থেকে রেহাই পেতে আমরা হাসপাতালের ওয়াশরুমে আশ্রয় নিয়েও রক্ষা পাইনি। কাইয়ুম খান ও তার সহযোগীরা আমাদের হাসপাতালের ওয়াশরুম থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর করে আহত করেছে।
খবর পেয়ে গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা স্থানীয়দের তোপের মুখে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ ব্যাপারে গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হামলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে কাইয়ুম খান বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ঘটনার সময় আমি যুবদলের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহতা জারাব সালেহিন বলেন—হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ দেখে সরকারি হাসপাতালের অভ্যন্তরে হামলার ঘটনা ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








