বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হাসিনার ডিসি ও পুলিশ কমিশনারদের বরিশালে পাঠানো হয়েছে: রনি

ব্যুরো চীফ, বরিশাল:

শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ সারাদেশে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মহিউদ্দীন রনি বলেছেন, “হাসিনার ডিসি ও পুলিশ কমিশনারদের বরিশালে পাঠানো হয়েছে।”

বুধবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রনি বলেন, “আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ কোনো অভিযোগ এজাহারভুক্ত করেনি। আমরা আশা করেছিলাম জনতার পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত করবে। কিন্তু আমরা বুঝতে পেরেছি, প্রশাসনের যারা আছেন—কমিশনার, ডিসি—তারা সবাই চরম মাত্রার অথর্ব। আমাদের মনে হচ্ছে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রত্যাহার করে হাসিনার ডিসি ও কমিশনারকে বরিশালে পাঠানো হয়েছে। তারা যদি প্রমাণ করতে চান যে তারা জনগণের পুলিশ ও ডিসি, তাহলে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। অন্যথায় হাসিনার পুলিশ ও স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে তাদের বরিশাল ছাড়তে হবে।”

তিনি আরও বলেন, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ সারাদেশে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে বরিশালবাসী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে কিছু সমস্যা সমাধান করেছে এবং একটি লিখিত রূপরেখা প্রদান করেছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীনের স্বাক্ষরিত সেই রূপরেখা বরিশালবাসীর আন্দোলনের সফলতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

রনি জানান, সারাদেশের স্বাস্থ্যখাত সংস্কার নিয়ে মন্ত্রণালয়ের লিখিত আশ্বাস ও রূপরেখা চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেননি। তাই বরিশালবাসী তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা দেন, হাসপাতালের দেওয়া রূপরেখা বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ এক মাস সময় চাইলেও আন্দোলনকারীরা ৫০ দিন সময় দিচ্ছে। এই সময়ে তারা মাঠে নেমে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পর্যবেক্ষণ, ফলোআপ ও মনিটরিং চালাবে। তবে কোনো ডাক্তার, নার্স বা স্টাফকে চাপ দেওয়া হবে না।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আগামী ৫০ দিনের মধ্যে যদি আশ্বাস অনুযায়ী সংস্কার না হয়, তাহলে বরিশালের মানুষ আবারও রাস্তায় নামবে। আমরা যতটুকু কঠোর আন্দোলন দেখিয়েছি, তার থেকেও কঠোর রূপে আন্দোলন চলবে।”

রনি আরও বলেন, আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়নি এবং চলমান থাকবে। “যতদিন পর্যন্ত সারা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের চার দফা দাবি মেনে না নেবে, লিখিত আশ্বাস দেবে না এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেবে না, ততদিন আন্দোলন চলবে।”

এ সময় তিনি অনশনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার তদন্ত প্রসঙ্গে জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি অ্যাকশনে যাবে বলেও তাদের জানানো হয়েছে।

শেষে রনি বলেন, “আমরা উপদেষ্টাকে গুনছি না, জনগণের শক্তিই আসল শক্তি। বরিশালের মানুষ অথর্ব উপদেষ্টার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ