ব্যুরো চিফ, বরিশাল
দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের ৩১ দফাকে জনগণের মুক্তির দলিল উল্লেখ করে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল-১ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেছেন—নির্বাচনী এলাকার প্রত্যেক ভোটারের হাতে হাতে ৩১ দফার লিফলেট পৌঁছে দেওয়া হবে।
আমরা ভোটারদের ঘরে ঘরে তারেক রহমানের বার্তা পৌঁছে দিয়ে আগামী সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাশাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান আরও বলেন—শুধু রাজনৈতিক কারণে কিংবা ক্ষমতা লাভের জন্য কেউ যেন ধর্মকে ব্যবহার করে বিভিন্ন অপব্যাখ্যা না দেয়, সেদিকে শিক্ষক সমাজ বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন বলে আমি শতভাগ বিশ্বাস করি।
আমরা যেন রাজনৈতিক কারণে ইসলামের ব্যবহার বন্ধ করি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য দুনিয়াবি স্বার্থে বা শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ধর্মের ক্ষতি করা ঠিক নয়।
ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল হিসেবে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে বিগত ওয়ান-ইলেভেন থেকে পতিত সরকারের সময়ে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে অসংখ্যবার হামলার শিকার ও একাধিক মামলায় কারাবরণ করা ইঞ্জিনিয়ার সোবহান আরও বলেন—বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল। বিএনপির ইতিহাসে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করা হয়েছে, আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ইসলামবিদ্বেষী শক্তি আওয়ামী লীগের পতন ঘটেছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যার যার কর্ম অনুযায়ী পতন ঘটান। আমরা আগেই অনুমান করেছিলাম—ইসলামবিদ্বেষী ও আলেমবিদ্বেষী এই আওয়ামী লীগ কখনো বাংলাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না, ক্ষমতাও ধরে রাখতে পারবে না। সে সময় আমাদের বহু আলেম-ওলামা, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছেন। বিশেষ করে শাপলা চত্বরে অসংখ্য আলেম-ওলামা শাহাদাত বরণ করেছেন।
রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেন—যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আর গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিতে না হয়, যেন রাজপথে শাপলা চত্বরের মতো হত্যাকাণ্ড আর না ঘটে, সেজন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাজনৈতিক কারণে যেন কেউ আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
সকল নাগরিকের ভোটাধিকারসহ মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে উল্লেখ করে বরিশাল-১ আসনের তৃণমূল বিএনপির দুর্দিনের একমাত্র অভিভাবক ইঞ্জিনিয়ার সোবহান বলেন—আমার নেতা তারেক রহমান আলেম-ওলামাসহ সব শ্রেণি ও পেশার মানুষকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করতে চাচ্ছেন, যেখানে সকল মানুষ একত্রে আলোচনা করে নীতি ও আইন নির্ধারণ করবে। এতে করে আইন সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে এবং তা বাস্তবায়ন করাও সহজ হবে।
আবদুস সোবহান বলেন, আমার নেতা তারেক রহমান বিশ্বাস করেন—মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী যারা আছেন, আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা জাতির মধ্যে কোনো বিভক্তি চাই না।








