অলিউল্লাহ ইমরান, বরগুনা:
বাংলাদেশে তৃণমূল জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু সুশাসন শক্তিশালীকরণ (SCGGP) প্রকল্পের আওতায় সাংবাদিকদের জন্য দিনব্যাপী “ক্লাইমেট ফাইন্যান্স ও ইন্টিগ্রিটি” বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) বরগুনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ কর্মশালার আয়োজন করে ওয়েভ ফাউন্ডেশন, যার অর্থায়ন করেছে ওয়ার্ল্ড রিসোর্স ইনস্টিটিউট।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার ৩২টি ইউনিয়নে চলমান এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য তৃণমূল জনগণের কাছে জলবায়ু অর্থায়নের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যক্ষভাবে ৭,৫৭০ জন এবং পরোক্ষভাবে প্রায় ২৪,৩৩৯ জন মানুষ উপকৃত হবেন। এর মধ্যে রয়েছে দলিত, হিজড়া, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।
প্রশিক্ষণে জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রতিবছর বিপুল অর্থ বরাদ্দ হয়। এই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, কোনো খাতে অপব্যবহার বা অনিয়ম হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরির মাধ্যমে সাংবাদিকরা জনগণের কাছে প্রকৃত তথ্য পৌঁছে দিতে পারবেন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
স্থানীয় সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম সপ্ন ইসলাম বলেন,
“আমরা আগে জলবায়ু অর্থায়নের বাজেট ও ব্যয়ের খাত নিয়ে তেমন ধারণা রাখতাম না। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিখেছি কীভাবে তথ্য সংগ্রহ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করা যায়।”
অন্য এক সাংবাদিক শাহ আলী বলেন,
“এই প্রশিক্ষণ আমাদের দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জলবায়ু প্রকল্পে অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করলে জনগণের আস্থা আরও বাড়বে।”
বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ বলেন,
“সাংবাদিকদের দায়িত্ব শুধু সংবাদ প্রকাশ নয়, বরং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। এ প্রশিক্ষণ সাংবাদিকদের দক্ষতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।”

দৈনিক দ্বীপাঞ্চলের সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বলেন,
“জলবায়ু প্রকল্পে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। সাংবাদিকরা এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারবেন।”
ওয়েভ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগণ জলবায়ু বিষয়ক সরকারি সেবায় আরও সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল হবেন। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। দুর্যোগ প্রস্তুতি, প্রশমন ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও টেকসই হবে।
প্রশিক্ষণে ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের বরগুনা সদর প্রকল্প কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কমিউনিটি মোবিলাইজেশন অফিসার মনিরুল ইসলাম। তারা বলেন,
“সাংবাদিকরা যদি বাজেট, ব্যয় এবং জনগণের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেন, তবে জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।”









