বরগুনা প্রতিনিধি
বরগুনার বামনা উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের দীর্ঘ ছয় বছরের প্রতীক্ষার পরও শেষ হয়নি বামনা মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ। দু’দফায় ঠিকাদার পরিবর্তন হলেও কাজের গতি শামুকের মতো ধীর থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকালে বামনা উপজেলা গোলচত্বরে বামনা প্রেসক্লাবের আয়োজনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিশুদ্ধ ইসলাম প্রচার ও ইসলামি সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে সরকার সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামি সংস্কৃতি কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এসব মসজিদে ইমাম প্রশিক্ষণ, ইসলামি গবেষণা, হজযাত্রী নিবন্ধন, শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমসহ জঙ্গিবাদ ও সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ প্রথমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এএসআই জেভি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক ছিলেন পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র ফেরদৌস আহমেদ। তবে নির্মাণকাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে ১৩ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার ১৬ টাকায় ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি দ্বিতীয় দফায় কাজের দায়িত্ব পায় এমকেটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
বর্তমানে উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক আওয়ামী লীগ নেতা রিপন ওরফে রাঙ্গা রিপন কারাগারে থাকায় নির্মাণকাজ আবারও স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে জেলার ছয় উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র বামনাতেই মডেল মসজিদ নির্মাণ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

এ পরিস্থিতিতে বামনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবু নাসের সিদ্দিক গোলাম কিবরিয়া ১৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসক ও জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করেন এবং দ্রুত নির্মাণকাজ সম্পন্নের দাবি জানান।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বামনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মজনু, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি হাফেজ মাওলানা সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ মানসুর, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সভাপতি আলহাজ সোবাহান খান, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান নাজির ধলু, ছাত্রদলের সদস্য সচিব সজিব হোসেন মুন্নাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।
এ বিষয়ে বরগুনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোল্যা রবিউল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে তাদের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








