নাসরিন সুলতানা, কক্সবাজার থেকে:
সাগরের উত্তাল জোয়ার ও প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বিভিন্ন অংশে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুই দিনে সাবরাং জিরো পয়েন্ট, শাহপরীর দ্বীপ এবং মহেশখালী পাড়া নৌ-ঘাট এলাকায় সড়কের একাধিক অংশ সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু সাবরাং জিরো পয়েন্টেই প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ফুট সড়ক সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে। যদিও ওই এলাকায় জিও টিউব দিয়ে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল, তবে তা উত্তাল ঢেউ ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে লোনা পানি জোয়ারের সময় আশপাশের চাষাবাদের জমিতে ঢুকে ফসলের ক্ষতি করছে।
সাবরাং এলাকার বাসিন্দা কলিম উল্লাহ বলেন, “ঢেউয়ের তীব্রতা বাড়তে থাকলে রাস্তার আরও বড় অংশ সাগরে চলে যেতে পারে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জানান, “শাহপরীর দ্বীপের দিকে ভাঙনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
এর আগে ৩০ মে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের কারণে বাহারছড়া শীলখালী ও মুণ্ডার ডেইল এলাকায় মেরিন ড্রাইভ সড়ক ভেঙে পড়েছিল। তখন স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক বিভাগ জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো মেরামত করেছিল।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহেসান উদ্দিন বলেন, “ভাঙনের খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সড়ক ও জনপথ বিভাগকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রতিরক্ষা কাজ খুব শিগগিরই শুরু হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, প্রকৃতির এই ক্ষিপ্র রূপ অব্যাহত থাকলে পর্যটননির্ভর এই অঞ্চলের অর্থনীতি এবং জনজীবন চরম হুমকির মুখে পড়তে পারে। তারা দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন।








