নিজস্ব প্রতিবেদক:
খাগড়াছড়ির দুর্গম কারিগর পাড়া ও রেজামনি পাড়ার পাঁচ শতাধিক মানুষের জীবনযাত্রায় আসছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। সেনাবাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপে শুরু হয়েছে একটি সোলার প্যানেলভিত্তিক বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প, যা ইতিমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে।
এই দুটি গ্রামে নেই কোনো রাস্তা, বিদ্যুৎ কিংবা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। তবে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান রেজামনি পাড়া আর্মি ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয়দের দুর্ভোগ প্রত্যক্ষ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে “রাজলক্ষ্মী অ্যান্ড রাজ পিউ ইঞ্জিনিয়ারিং সল্যুশন” নামক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব বড়ুয়া জানিয়েছেন, প্রতিদিন চার হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে দুটি এক হাজার লিটার এবং একটি দুই হাজার লিটারের পানির ট্যাংকি স্থাপন করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক সুবীন্দ্র লাল কারবারি (৭০) বলেন, “সেনাপ্রধানের এই উদ্যোগ আমাদের জন্য ওপরওয়ালার আশীর্বাদ।” তার মতো অনেকেই আশা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পানিবাহিত রোগ কমে আসবে এবং দৈনন্দিন জীবন সহজ হবে।
এর পাশাপাশি, সেনাবাহিনী পার্বত্য এলাকায় যোগাযোগ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পার্বত্য সীমান্ত সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে দুর্গম এলাকাগুলোর সঙ্গে জেলা শহরের সংযোগ স্থাপন সহজ হয়েছে। সেই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষিপণ্য বিপণনের সুযোগও বেড়েছে।
খাগড়াছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে সেনাবাহিনীর পরিচালিত মেডিক্যাল ক্যাম্পে প্রতিদিন রোগীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। এখানে চারজন চিকিৎসক এবং একজন গাইনি বিশেষজ্ঞ দায়িত্ব পালন করছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য।
এছাড়া দুর্গম অঞ্চল থেকে মুমূর্ষু রোগীদের সেনাবাহিনীর সহায়তায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। এমনকি জরুরি প্রয়োজনে হেলিকপ্টারের ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে।
সেনাবাহিনীর এসব উদ্যোগ প্রমাণ করছে—উপেক্ষিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াতেও একটি সুসংগঠিত বাহিনী কতটা মানবিক ভূমিকা রাখতে পারে।








