বৃহস্পতিবার, ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

লক্ষীপুরের আলেকজান্ডার মেঘনা বীচ যেন এক সমুদ্র সৈকত

রুবেল ভূঁইয়া, পথে প্রান্তরে:

লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার মেঘনা বীচ যেন এক সমুদ্র সৈকত। প্রতিক্ষণ জোয়ার-ভাটার স্রোতের খেলা চলে এখানে। ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নৌকাগুলোও যেন নদীর বুকে নাচে। কখনও কখনও সেই ঢেউ ছুটে আসে কূলের বেলাভূমিতে, আছড়ে পড়ে তীব্র শব্দে। এমনই নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখা যায় লক্ষ্মীপুর জেলার দক্ষিণের দুটি উপকূলীয় জনপদ—মতিরহাট ও আলেকজান্ডার মেঘনা সৈকতে।

জেলার সর্বদক্ষিণে অবস্থিত কমলনগর ও রামগতির পশ্চিম উপকূল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে এ দুটি অঘোষিত সৈকত। লক্ষ্মীপুরের পরিচিতিতে ইলিশের অবদান অনন্য হলেও, এই দুই মেঘনাতীরবর্তী স্থানে দিন দিন পর্যটকদের ভিড় বাড়ছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে এখন পরিচিত হয়ে উঠছে সৈকতদুটি। মেঘনার তীরে এমন একটি জায়গা যেখানে অল্প খরচে, অল্প সময়ে ঘুরে এসে ফুরফুরে একটা সময় কাটানো যায়—এমন সুযোগ কে-ই বা হাতছাড়া করতে চায়? সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় এখানে বেড়াতে এসে দিন কাটাতে কারও তেমন বেগ পোহাতে হয় না।

কমলনগরের মতিরহাটের মেঘনাতীরে গড়ে উঠেছে এক অনন্য প্রকৃতিক সৌন্দর্যের স্বর্গ। নদীর পাড়জুড়ে প্রশস্ত বেলাভূমি, তার পাশে নারকেল আর সুপারির ঘন সবুজ বাগান, মাঝেমধ্যে ভেসে আসা হালকা বাতাসে নারকেল পাতার দোল, সব মিলিয়ে যেন এক পেইন্টিংয়ের মতো। এখানে এসে যে কেউ হেঁটে যেতে পারে অনেকটা পথ। কেউ চাইলে নদীতে গোসল করতেও পারেন নির্ভয়ে। নদীর ধার ঘেঁষে গড়ে ওঠা বেড়িবাঁধও যোগ করেছে বাড়তি নিরাপত্তা ও দৃশ্যের ভিন্নতা। একবার এখানে পা রাখলে বারবার ফিরে আসতে মন চাইবে। মতিরহাটে পৌঁছাতে হলে আগে যেতে হবে লক্ষ্মীপুর শহরের ঝুমুর স্টেশন। সেখান থেকে বাস বা সিএনজিতে তোরাবগঞ্জ, এরপর সিএনজি নিয়ে সরাসরি মতিরহাট নদীপাড়।

অন্যদিকে জেলার রামগতি উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আলেকজান্ডার মেঘনা সৈকত। যদিও এটি মূলত নদীভাঙন রোধে নির্মিত একটি বেড়িবাঁধ, তবে শহরের পাশে নদীর উপস্থিতি এটিকে এক রকম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত করে তুলেছে। বাঁধের গা ঘেঁষে নদীর ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে, আর দূরে তাকালে শুধু নদী আর আকাশের অসীম বিস্তার চোখে পড়ে। এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে বোঝাই যায় না, আমরা নদীর পাশে নাকি সমুদ্রের ধারে। মানুষের ভিড়ও এখানে তুলনামূলক বেশি। শহরের এত কাছে এমন একটি স্থানে নদী দেখা ও সময় কাটানোয় আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে ওঠে।

পর্যটকদের কথা বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। বাঁধের পাশে বসার জায়গা, ল্যাম্পপোস্ট বসানোসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ফলে এখন শুধু দিনের বেলাতেই নয়, রাতে আলোকিত নদীপাড়েও আড্ডা ও গল্পে মেতে ওঠা যায়। সৈকতের পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় ‘স্বপ্ন নিয়ে’ নামের একটি সামাজিক সংগঠন নিয়মিত কাজ করছে। তারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কর্মসূচিও চালু রেখেছে।

লক্ষ্মীপুরের এই দুই মেঘনা তীরবর্তী অঞ্চল এখন আর কেবল নদীরপাড় নয়, পর্যটনের সম্ভাবনাময় এক ঠিকানা হয়ে উঠছে। প্রয়োজন শুধু পরিকল্পিত উদ্যোগ, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যা। তাহলেই আলেকজান্ডার ও মতিরহাট সৈকত হতে পারে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ