রুবেল ভূঁইয়া, পথে প্রান্তরে:
নারিকেল ও সুপারি উৎপাদনে দেশের শীর্ষস্থানীয় জেলা হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মীপুর। প্রতিবছর বিপুল পরিমাণে এই দুটি ফসল উৎপাদিত হওয়ায় জেলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে নারিকেল-সুপারি খাত। জেলার কৃষকরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব, যা স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়েও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
আবহাওয়া অনুকূল থাকায় লক্ষ্মীপুরে প্রতি বছর প্রচুর নারিকেল ও সুপারি উৎপন্ন হয়। জেলার চারপাশে বিস্তীর্ণ নারিকেল-সুপারির বাগান চোখে পড়ে। এসব বাগান শুধু অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয়, বরং পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায়ও ভূমিকা রাখছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে নারিকেল চাষ হচ্ছে। প্রতিবছর এ জেলা থেকে ৫ থেকে ৬ কোটি শুকনো নারিকেল উৎপাদিত হয়। অন্যদিকে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জেলার ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ হয়েছে। এ থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরে জেলার সুপারি উৎপাদন ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯৩১ টন।
স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অবলম্বন এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে নারিকেল ও সুপারির উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। জেলার প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় এখন দেখা মেলে নারিকেল ও সুপারির গাছ। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই ফসল দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে, ফলে লক্ষ্মীপুর অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে।

জেলার কৃষকদের দাবি, নারিকেল-সুপারির উৎপাদন ও মান বৃদ্ধির জন্য সরকারি সহায়তায় একটি গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। সেখানে উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক রোপণ পদ্ধতি এবং সময় উপযোগী চাষাবাদ নিয়ে গবেষণা চালানো গেলে ফলন আরও বাড়ানো সম্ভব। এতে শুধু দেশের অভ্যন্তরে নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও নারিকেল ও সুপারির রপ্তানি করা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লক্ষ্মীপুর কৃষিপ্রধান জেলা হলেও শিক্ষা, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও পর্যটনের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। নদীকেন্দ্রিক নানা পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠায় জেলার সম্ভাবনাও বাড়ছে।
সরকার যদি প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়, তাহলে নারিকেল-সুপারি খাত দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখতে পারবে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুরে একটি পূর্ণাঙ্গ নারিকেল-সুপারি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করার দাবি জানাচ্ছেন কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্টরা।








