রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কাপ্তাই বাঁধের পানি চূড়ান্ত সীমায়, খোলা হয়েছে জলকপাট

স্টাফ রিপোর্টার, পার্বত্যাঞ্চল:

কাপ্তাই বাঁধের অধিক ঝুঁকি এড়াতে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাত ১১টা থেকে ১৬টি জলকপাট ফের দেড় ফুট করে খোলা হয়েছে। এতে প্রতি সেকেন্ডে ২৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।

হ্রদ এলাকায় অব্যাহত বৃষ্টি এবং ভারতের মিজোরাম থেকে নেমে আসা প্রবল পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানির চাপ মুহূর্তে মুহূর্তে বাড়ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও বাঁধকে নিরাপদ রাখতে নতুন করে আরও ১ ফুট পানি ছাড়া হচ্ছে। এর আগে ৬ ইঞ্চি পানি ছাড়া হয়েছিল। এ নিয়ে মোট দেড় ফুট করে বাঁধের ১৬টি জলকপাট খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান।

তিনি বলেন, অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হ্রদের পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। সে কারণে সেকেন্ডে ২৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে। তবে ভাটির মানুষের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে জরুরি ভিত্তিতে ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দিয়ে সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর মধ্যে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৮.৫৫ এমএসএল অতিক্রম করে চূড়ান্ত বিপদসীমায় পৌঁছায়। বাঁধের পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ এমএসএল হওয়ায় অতিরিক্ত ১ ফুট পানি স্পিলওয়ে দিয়ে ছাড়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানান, হ্রদে পানি বাড়ায় কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটই বর্তমানে সচল রয়েছে। দেড় ফুট পানি ছাড়ার ফলে ২৯ হাজার কিউসেক পানি বাঁধ থেকে নিষ্কাশন হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ৫ ইউনিটের টারবাইনের মাধ্যমে আরও ৩২ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে মোট ৬১ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে।

উজান থেকে নেমে আসা বন্যার পানি ও টানা বর্ষণের ফলে কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই বাঁধ বিপদসীমায় পৌঁছেছে। এর ফলে রাঙামাটি জেলা শহরসহ লংগদু, বাঘাইছড়ি ও বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে হাজারও ঘরবাড়ি, বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ও বীজতলা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ