শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পূণ্যার্থীদের ‘সাধু সাধু’ ধ্বনিতে সমাপ্ত হলো কঠিন চীবর দানোৎসব

স্টাফ রিপোর্টার, পার্বত্যাঞ্চল

রাঙ্গামাটির ঐতিহ্যবাহী রাজবনবিহার ময়দানে লাখো পূণ্যার্থীর ‘সাধু সাধু’ ধ্বনিতে মুখরিত পরিবেশে শেষ হয়েছে ৪৯তম কঠিন চীবর দানোৎসব। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে চীবর দান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুইদিনব্যাপী এ ধর্মীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে।

বৌদ্ধ শাস্ত্র অনুযায়ী তথাগত গৌতম বুদ্ধের সময় আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী বা প্রবারণা পূর্ণিমা পর্যন্ত ভিক্ষুরা একই স্থানে বর্ষাবাস পালন করতেন। এ সময়ে তাঁদের ব্যবহৃত বস্ত্র জীর্ণ হয়ে পড়লে পুণ্যবতী বিশাখা বুদ্ধের অনুমতি নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা তৈরি করে কোমর তাঁতে বিশেষ বস্ত্র বোনেন এবং বুদ্ধ ও তাঁর শিষ্যদের দান করেন। সেই প্রাচীন রীতির ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালে লংগদুতে পরিনির্বাণপ্রাপ্ত বনভান্তে প্রথমবারের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামে কঠিন চীবর দানের প্রচলন করেন।

আরও পড়ুন:

https://potheprantore.com/bangladesh/chittagong/rangamati/%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%ac%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87/

এর পর থেকে প্রতিবছর প্রবারণা পূর্ণিমার পর এক মাস ধরে পাহাড়ের কোথাও না কোথাও প্রতিদিনই কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন হাজারো পূণ্যার্থী। তাঁদের বিশ্বাস, এ কঠিন দানের মধ্য দিয়ে সুখ-শান্তি অর্জনের পাশাপাশি পরবর্তী জন্মে মঙ্গল লাভ করা যায়।

চীবর দানের পাশাপাশি এ উৎসবে কল্পতরু, বুদ্ধমূর্তি, সংঘদান ও অষ্টপরিষ্কার দান সম্পন্ন করা হয়, যা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে শ্রেষ্ঠ ও কঠিন দান হিসেবে গণ্য।

উৎসবের উদ্বোধনী পর্বে আদর্শী চাকমা ও প্রজ্ঞা চাকমা সংগীত পরিবেশন করেন। এরপর রাজবনবিহার উপাসক-উপাসিকা কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিয় খীসা পঞ্চশীল প্রার্থনা পরিচালনা করেন। পঞ্চশীল প্রদান করেন রাজবনবিহারের আবাসিক প্রধান প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির।

এরপর সকল প্রাণীর হিতসুখ ও মঙ্গলার্থে মৈত্রী ভাবনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান পর্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার রাজবনবিহারের আবাসিক প্রধানের হাতে কঠিন চীবর দান করেন। এছাড়াও রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ ভিক্ষুসংঘের কাছে চীবর দান করেন।

অনুষ্ঠানে রাজবনবিহার উপাসক উপাসিকা পরিষদের সহসভাপতি ও শিক্ষাবিদ নিরুপা দেওয়ান বলেন, “আমরা যদি একে অপরের ভুল বুঝে দূর করতে পারি, তাহলে আমাদের সমাজে কোনো ভেদাভেদ বা সাম্প্রদায়িকতা থাকবে না। সবাই মিলে এই দেশকে শান্তির দেশে পরিণত করতে হবে।”

উৎসব উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সারা দেশের শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। এ সময় প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবিরসহ শত শত ভিক্ষুসংঘ, জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি ঊষাতন তালুকদার, বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন এবং ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে আগত পূণ্যার্থীসহ লাখো ভক্ত উপস্থিত ছিলেন।

সন্ধ্যায় ফানুশ উড়ানোর মধ্য দিয়ে রাজবনবিহারের এবারের কঠিন চীবর দানোৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ