বৃহস্পতিবার, ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফের খোলা হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট

স্টাফ রিপোর্টার, পার্বত্যাঞ্চল

কাপ্তাই বাঁধের পানি সর্বোচ্চ সীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় বাঁধের ১৬টি জলকপাট তৃতীয়বারের মতো ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়েছে। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

সোমবার দুপুর পৌনে তিনটায় কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের সবগুলো গেট খোলা হয়। কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, হ্রদের পানি বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় উজান ও ভাটি এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতি সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। বিকেলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১০৮.৮৬ এমএসএল, যেখানে হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। এটি চলতি বছরের সর্বোচ্চ পানির স্তর।

তিনি আরও জানান, হ্রদের পানির প্রবাহ (ইনফ্লো) ও বৃষ্টিপাত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানির স্তর অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পেলে ধাপে ধাপে গেট আরও খোলা হবে।

এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রেখে প্রতি সেকেন্ডে কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে ৩২ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে। ফলে মোট ৪১ হাজার কিউসেক পানি নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ আগস্ট মধ্যরাতে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ১৬টি জলকপাট প্রথমবারের মতো ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে পানি আরও বেড়ে যাওয়ায় জলকপাট সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ ফুট পর্যন্ত খোলা হয়। পানি কমে আসায় ১২ আগস্ট সকালে গেটগুলো বন্ধ করা হয়। পরবর্তীতে ২০ আগস্ট আবারও ৬ ইঞ্চি গেট খোলা হয়, যা ২৩ আগস্ট বন্ধ করা হয়। সোমবার বিকালে তৃতীয়বারের মতো স্পিলওয়ে খুলে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে বর্তমানে ৪১ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ