রবিবার, ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যেকোনো মুহূর্তে খুলে দেয়া হবে কাপ্তাই লেকের স্পিলওয়ে

স্টাফ রিপোর্টার, পার্বত্যাঞ্চল:

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ১০৮ এমএসএল-এ পৌঁছেছে। পানির অতিরিক্ত চাপের কারণে কাপ্তাই বাঁধকে সুরক্ষিত রাখতে কর্তৃপক্ষ বাঁধের ১৬টি স্পিলওয়ে খুলে পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারতের মিজোরাম থেকে নেমে আসা পানি, পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টির ফলে হ্রদের পানি বেড়ে বর্তমানে ১০৭.৮৪ এমএসএল-এ দাঁড়িয়েছে। সাধারণত কাপ্তাই বাঁধের পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল পর্যন্ত। ১০৮ এমএসএলের কাছাকাছি পৌঁছালে এটিকে বিপদসীমা হিসেবে গণ্য করা হয়।

এই অবস্থায় রোববার রাতে বাঁধ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ১৬টি স্পিলওয়ে খুলে পানি ছেড়ে দেওয়া হবে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নিচু এলাকার লোকজনকে সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে। তবে সোমবার পানির প্রবাহ তুলনামূলক কম থাকায় স্পিলওয়ে খোলা হয়নি।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান সোমবার বিকেল সাড়ে চারটায় এই প্রতিবেদককে জানান, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ১৬টি স্পিলওয়ে ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পানির চাপ বেড়ে গেলে রাতের যেকোনো সময়ও স্পিলওয়ে খুলে দেওয়া হতে পারে বলে তিনি জানান।

প্রতিটি স্পিলওয়ে ৬ ইঞ্চি করে খোলা হলে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হবে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৫টি ইউনিট চালু রয়েছে, যেগুলো থেকে প্রতি সেকেন্ডে ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে বর্তমানে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা এ বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আরও জানান, পানি ছাড়ার আগে নোটিশ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পানির লেভেলের ওপর নির্ভর করেই কত ইঞ্চি করে পানি ছাড়া হবে, তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কাপ্তাই বাঁধ থেকে পানি ছাড়া হলে কর্ণফুলী নদীর পানিপ্রবাহ বাড়বে। তবে এতে বড় ধরনের প্লাবনের আশঙ্কা নেই বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটি শহরের লেক-সংলগ্ন এলাকা ডুবে গেছে। এতে বহু ঘরবাড়ি হ্রদের পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি লংগদু, বরকল, নানিয়ারচর, জুরাছড়ি ও বাঘাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়িঘর পানিতে ডুবে গেছে।

বাঘাইছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরিন আখতার জানান, তার এলাকায় উজান থেকে নেমে আসা প্রচুর পানি ঢুকে পড়েছে। এতে বহু ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ