স্টাফ রিপোর্টার, পার্বত্যাঞ্চল
রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে জুম চাষে ভয়াবহ ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। এতে শত শত জুমচাষি পরিবার ফসল ঘরে তোলার আগেই ক্ষতির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।
সম্প্রতি বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের দুর্গম পাঁচটি গ্রামে ইঁদুরের আক্রমণে জুমক্ষেতের ফসল ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ইতোমধ্যেই প্রায় ২৩২টি পরিবারের জুম ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ যাচাই করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাজেকের পাহাড়ি এলাকায় ধান চাষের জমি নেই বললেই চলে। এখানকার জনগোষ্ঠী জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল। আগস্টের শেষের দিকে জুমের ধান পাকা শুরু হলেও রাতের আঁধারে ঝাঁকে ঝাঁকে ইঁদুর ক্ষেতে নেমে ধান খেয়ে ফেলছে। ফলে শত শত পরিবার ঘরে তুলতে পারছে না ফসল। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে শিয়ালদাই লুইপাড়া, হাইচ্চাপাড়া, জামপাড়া, অরুণপাড়া এবং লুংথিয়ানপাড়া।
জুমচাষ পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী কৃষি পদ্ধতি। পাহাড়ি ঢালে আগাছা কেটে পুড়িয়ে এই চাষ করা হয়। রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে জুম ধানের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ৭ হাজার মেট্রিক টন চাল। এর মধ্যে কেবল বাঘাইছড়ি উপজেলায় ১ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে জুমের আবাদ হয়েছে।
শিয়ালদাই মৌজার হেডম্যান জৈইপুই থাং ত্রিপুরা বলেন, “আগস্টের শেষ দিকে জুমের ধান পাকা শুরু হওয়ার পর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইঁদুর ধানক্ষেতে নেমে গাছের গোড়া কেটে দিচ্ছে। কোথাও ধান পেকে গেছে, কোথাও শীষ এসেছে—সব নষ্ট করে দিয়েছে।”
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা বলেন, “প্রায়ই সাজেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। এবার ইঁদুরের বন্যায় শিয়ালদাই, হাইচ্চাপাড়া, জামপাড়া ও আরও কয়েকটি গ্রামের জুম ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির চেষ্টা করছি।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, “আমি বিষয়টি এখনো জানি না। দ্রুত মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান জানান, “স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছি। ইঁদুরের হাত থেকে ফসল রক্ষার বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককেও জানানো হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, সাজেকে ২০১৭ সালে এবং ২০২২ সালেও ইঁদুরের উপদ্রবে ফসল নষ্ট হয়ে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল। তখন সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে খাদ্যশস্য দিয়ে সহায়তা করেছিল।








