স্টাফ রিপোর্টার, পার্বত্যাঞ্চল
‘সিম্বল অব রাঙ্গামাটি’ হিসেবে পরিচিত ঐতিহাসিক পর্যটন ঝুলন্ত সেতু অবশেষে দীর্ঘ ৮৫ দিন পর আবারও পানির উপরে দৃশ্যমান হয়েছে। কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে সেতুর মূল পাটাতন চোখে পড়েছে।
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের সূত্রে জানা গেছে, আগামী শুক্রবার থেকে সেতুটি পর্যটকদের পারাপারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
এর আগে, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে গত ৩০ জুলাই কাপ্তাই হ্রদের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে সেতুর পাটাতন সম্পূর্ণভাবে পানিতে তলিয়ে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে সেটি বন্ধ ঘোষণা করে পর্যটন কর্পোরেশন।
রাঙ্গামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, “হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় আজ সকালে সেতুর মূল পাটাতন দৃশ্যমান হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকায় কিছু কাঠের পাটাতন নষ্ট হয়েছে এবং রঙসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক অংশের মেরামত প্রয়োজন।” তিনি আরও জানান, “সেতুটি পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিমুক্ত করতে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। সম্পূর্ণ মেরামত শেষ করতে দু-এক দিন সময় লাগবে।”
এদিকে, সেতুটি ভেসে ওঠায় স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার কারণে পর্যটকদের আগমন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছিল। এখন সেতুটি পুনরায় দৃশ্যমান হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি পেলে এই ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে ডুবে যায়। জানা গেছে, হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট হলেও সেতুটি নির্মাণ করা হয় ১০৭ ফুট (মিন সি লেভেল) উচ্চতায়। ফলে পানি সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছানোর আগেই সেতুটি তলিয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কাপ্তাই হ্রদের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া এবং নিয়মিত ড্রেজিং না হওয়ায় এখন প্রায় প্রতি বছরই সেতুটি পানির নিচে চলে যায়। স্থানীয়দের দাবি, সেতুটিকে রাঙ্গামাটির পর্যটনের টেকসই প্রতীক হিসেবে ধরে রাখতে শিগগিরই নতুন করে সংস্কার ও উচ্চতা পুনঃনির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।








