শরীয়তপুর প্রতিনিধি
মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনের কড়াকড়ি অভিযান চললেও শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় প্রকাশ্যেই চলছে মা ইলিশের বেচাকেনা। পদ্মার দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে একাধিক অস্থায়ী মাছের আড়ত। সেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মা ইলিশ কেনাবেচা হচ্ছে—ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সরকারের ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভেদরগঞ্জ উপজেলার উত্তর তারাবুনিয়ার ছুরিরচর বেপারী বাজারের দক্ষিণ পাশে নদীর পাড়ে উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লাল মিয়া বেপারীর নেতৃত্বে ১০-১২ জন ব্যবসায়ী মিলে একটি অস্থায়ী মাছের আড়ত গড়ে তুলেছেন। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চলছে মা ইলিশের কেনাবেচা। একইভাবে দুলারচর ভাঙা স্কুল এলাকা, উত্তর তারাবুনিয়ার মোল্যার বাজার ঘাট এবং মনাই হাওলাদারের বাজারের সাবেক লঞ্চঘাট এলাকাতেও গড়ে উঠেছে একাধিক অস্থায়ী আড়ত। কাচিকাটার বিভিন্ন পয়েন্টেও বসেছে ছোট-বড় আরও কয়েকটি মাছের হাট।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব আড়তে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার মা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। জেলেরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতে নদীতে জাল ফেলছে। অভিযানের খবর পেলে দ্রুত পাড়ে উঠে যায়, আবার পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই মাছ তুলে এনে এসব আড়তে বিক্রি করছে।
ব্যবসায়ী লাল মিয়া বেপারী বলেন, “আশা ছিল মা ইলিশের মৌসুমে ভালো ব্যবসা হবে। কিন্তু নদীতে আশানুরূপ মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এখানে যারা ব্যবসা করে, সবার অবস্থাই খারাপ।”
আরেক ব্যবসায়ী সুমন প্রধানীয়া বলেন, “নদীতে মাছ নেই, জেলেরা নদীতে যেতে পারছে না। ব্যবসা করে লোকসান গুনছি।”
জেলে আল আমিন ও আনিসুর রহমান বলেন, “২২ দিন কাজ না করে বসে থাকলে সংসার চলে না। সরকার যে ২০ কেজি চাল দেয়, তাতে পরিবার টেকে না। তাই ঝুঁকি নিয়েই নদীতে জাল ফেলি।”
অন্যদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টি ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখছেন। সখিপুর থানা বিএনপির সভাপতি ও কাচিকাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সরদার বলেন, “আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কেউ যদি অবৈধ কাজে জড়িত থাকে, সেটা ব্যক্তিগত বিষয়। বিএনপি তার দায় নেবে না। আমরা চাই প্রশাসন অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিক।”
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছি, জাল জব্দ করছি। আপনি যে আড়তের কথা বলেছেন, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রসঙ্গত, মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য প্রতিবছরের মতো এবারও ১২ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুদে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। কিন্তু পদ্মার তীরে অবাধে চলছে মা ইলিশের হাট—যা সরকারের এই উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান সীমিত এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকায় এবং রাতের অন্ধকারে নজরদারি দুর্বল থাকায় এসব অবৈধ আড়ত দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। ফলে পদ্মার ইলিশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে জেলেপাড়ায়।








