,

কর আরোপ ছাড়া কেসিসির বাজেট ঘোষণা, বাজেটের আকার কমেছে

সুনীল দাস, খুলনা ব্যুরো

খুলনা নগরবাসীর ওপর কোনো প্রকার কর আরোপ না করে নিজস্ব আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা এবং সরকার ও দাতা সংস্থার ওপর নির্ভরশীল ৭১৯ কোটি ৫০ লাখ ৩৬ হাজার টাকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকার নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে এ বাজেট ঘোষণা করেন।

ঘোষিত বাজেটে আর্থিক অসঙ্গতি, দাতা সংস্থা ও সরকারের বরাদ্দ হ্রাসের কারণে গত বছরের বাজেটের তুলনায় ২৬২ কোটি টাকা কম প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেটে রাজস্ব তহবিল থেকে আয় ধরা হয়েছে ৪৫৫ কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা এবং রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৭ কোটি ৬৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। সরকারের অনুদান ধরা হয়েছে ১৩০ কোটি ২৮ লাখ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট দাঁড়িয়েছে ৬১৮ কোটি টাকা, যা ছিল ৯৮১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক কম।

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ আসিফ রহমান। এতে সাবেক মেয়র মো. মনিরুজ্জামান, মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাড. শফিকুল আলম মনা, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জামায়াতের মহানগর শাখার সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আশরাফ-উজ-জামান, নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ, কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী, মিডিয়া প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাজেট ঘোষণায় কেসিসির প্রশাসক বলেন, “বাজেটে এবারও নতুন কোনো কর আরোপ করা হয়নি। বকেয়া পৌরকর আদায়, নবনির্মিত স্থাপনায় প্রচলিত নিয়মে কর ধার্য এবং নিজস্ব আয়ের উৎস সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্পোরেশনের আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি একটি উন্নয়নমুখী বাজেট।”

তিনি জানান, বাজেটে সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশক নিধন, ধর্মীয় উপাসনালয়, পার্ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট উন্নয়ন, দপ্তর আধুনিকায়ন ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগস্ট-২০২৪ এবং তার পূর্বে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

কেসিসি প্রশাসক আরও জানান, কর্পোরেশনের নিজস্ব সংস্থাপন ব্যয় মিটিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে মোট ১১৪ কোটি ৮৯ লাখ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্তখাত, বিএমডিএফ, অবকাঠামো নির্মাণ, সড়কবাতি, শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, সমাজকল্যাণ, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য, ভেটেরিনারি এবং কনজারভেন্সি খাত মিলিয়ে ১০০ কোটি ২৩ লাখ ৫ হাজার টাকা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে ১৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং মূলধন খাতে ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেটে এডিপির জন্য ৫৫ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্তখাতে ২৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা, জরুরি পানির চাহিদা মেটাতে ৭০ লাখ টাকা, ভেটেরিনারি খাতে ৭০ লাখ টাকা, জনস্বাস্থ্য খাতে ৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা এবং কনজারভেন্সি খাতে ২১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৩৩ কোটি ১৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • নগর অঞ্চল প্রকল্প-২: ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা
  • হেলদি সিটি খুলনা আরবান লিড প্রোগ্রাম: ১৫ লাখ টাকা
  • সাসটেইনেবল ক্যাপাসিটি বিল্ডিং টু রিভিউস ইরিভার্সিবল পপুলেশন বাই প্লাস্টিক প্রকল্প: ৭০ লাখ টাকা
  • আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্প: ৬ কোটি টাকা
  • ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপটেশন আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প-২: ৬০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা
  • সাসটেইনেবল আরবান ওয়াটার সাইকেল প্রকল্প: ৭২ লাখ ৩০ হাজার টাকা
  • কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রকল্প: ৫০ কোটি টাকা
  • ইন্টিগ্রিটি ফর ট্রান্সমিট থ্রু ইয়ুথ কাউন্সিল প্রকল্প: ১ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা
  • স্মার্ট ওয়াশ ইনিশিয়েটিভ বাই ইউনিসেফ: ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা
  • জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প: ২৫ লাখ টাকা
  • লিভেবল অ্যান্ড ইনক্লুসিভ সিটিস প্রকল্প: ৪০ লাখ টাকা

এছাড়া জাতীয় এডিপিভুক্ত দুইটি প্রকল্পে ৭৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় নগরবাসী ও মিডিয়াকর্মীদের সহায়তা কামনা করে কেসিসির প্রশাসক বলেন, “প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে খুলনা মহানগরীকে একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরীতে পরিণত করা হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ