ব্যুরো চীফ, খুলনা
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ও আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতাকর্মী দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে চান, কিন্তু তাদেরকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশে দাঁড়িপাল্লার জোয়ার দেখে বিএনপির মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। আগামী নির্বাচনে ইসলামী দলগুলো সমঝোতার ভিত্তিতে ভোটের মাধ্যমে জয় লাভ করে নতুন বাংলাদেশ গঠন করবে।
তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখাবেন জনগণ। নির্বাচনে কেউ যদি ভোটকেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল মেরে ভোট নিয়ে যেতে চায়, তাহলে কেন্দ্র দখল করে রাখতে হবে। এজন্য সকাল থেকে নেতাকর্মী-সমর্থকদের প্রতিটি কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকালে খুলনা-৫ আসনের ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর আন্দুলিয়া ফুটবল মাঠে ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ছাত্র গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন তুলে বলেন, যারা ৫৪ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, তাদের আমলে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, জুলুম–নির্যাতন, টাকা পাচার—এসবের দায় কে নেবে? ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও মাঠদখল, বাজার-ঘাটের নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি আগের ধারার মতোই চলছে। তবে এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। পুরনো রাজনৈতিক ধারা, দুর্নীতি ও দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত হয়ে একটি ন্যায়পরায়ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
প্রবাসী শ্রমিকদের সমস্যা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, পাসপোর্ট ও রেজিস্ট্রেশনসহ নানা হয়রানি বন্ধে একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রয়োজন। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সব প্রশাসনিক জটিলতা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ডিসি, এসপি, ইউএনওসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দিনের ভোট রাতে হলে তার পরিণতি কী হয়—দেশ তার মূল্য দিয়েছে। এবার কেউ ভোট ডাকাতির চেষ্টা করলে দায় এড়াতে পারবেন না।
ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হুসাইনের সভাপতিত্বে ছাত্র গণজমায়েতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) জিএস মাজহারুল ইসলাম।
এ সময় বক্তৃতা করেন ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী, রাকসুর হাবিবুর রহমান হল সংসদের ভিপি আহমদ আহসান উল্লাহ ফারহান, জাকসুর সদস্য আবু তালহা, মালয়েশিয়া প্রবাসী আবু হানিফ আকুঞ্জি, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, খুলনা মহানগর আমীর ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস ও গাউসুল আযম হাদী, মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, খুলনা জেলা উত্তরের ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ ফকির, ডুমুরিয়া উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান ও গাজী সাইফুল্লাহ, সেক্রেটারি ও উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সহ-সভাপতি ডা. হরিদাস মণ্ডল, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি বি. এম. আলমগীর হুসাইন, ডুমুরিয়া উপজেলা উত্তরের ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাওলানা মফিজুর রহমান, ধামালিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাস্টার মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী ও মাওলানা মফিজুর রহমান।
ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আহমদ আতাউল্লাহ সালমান।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন শেখ সিরাজুল ইসলাম, মোস্তফা আল মুজাহিদ, ডা. সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো, আব্দুল ওয়াদুদ সরদার, আব্দুল কাইয়ুম আল ফয়সাল, ড. ইকরাম উদ্দীন সুমন প্রমুখ।








