সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মায়ের সঙ্গে ১১ দিনের শিশু কারাগারে

পথে প্রান্তরে ডেস্ক  

শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় গ্রেপ্তার শাহজাদীকে হাসপাতাল থেকে আদালতে পাঠায় পুলিশ। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে তাকে হাজির করা হয়। তবে তার পক্ষে কেউ জামিন আবেদন করেননি, উপস্থিত ছিলেন না কোনো আইনজীবীও। ফলে শুনানি হয়নি। পরে আদালত শাহজাদীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মা ছাড়া শিশুটিকে দেখাশোনার কেউ না থাকায় ১১ দিন বয়সি নবজাতককেও তার সঙ্গে খুলনা জেলা কারাগারে নিয়ে যায় পুলিশ।

গত ১১ সেপ্টেম্বর খুলনা মহানগরীর রূপসা এলাকার একটি হাসপাতালে বাগেরহাটের রামপালের সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী ও ফকিরহাটের মেয়ে শাহজাদীর (৩৬) কোলজুড়ে আসে ফুটফুটে কন্যা সন্তান। এর আগে তাদের ঘরে চার কন্যা সন্তান রয়েছে। ছেলে হবে— এমন প্রত্যাশা ছিল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের। কিন্তু কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ায় স্বামী সিরাজুল স্ত্রীকে হাসপাতালে ফেলে চলে যান। এরপর থেকে তিনি আর খবর নেননি।

পরিবারের চাপ ও হতাশার মধ্যে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঘটে অঘটন। একই হাসপাতাল থেকে আরেক প্রসূতির চার দিন বয়সি ছেলে নবজাতক চুরি হয়। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও পুলিশের তৎপরতায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নবজাতক উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে শাহজাদীর মা নার্গিস বেগমের (৫৫) কাছ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তখন আটক হন তিনি।

এ ঘটনায় শাহজাদী ও তার মাকে আসামি করে মানবপাচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে নার্গিস বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি ছয় দিন ধরে কারাগারে আছেন। অন্যদিকে, শাহজাদী হাসপাতালের একটি কক্ষে পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেন, মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখতেই এ কাজ করেছিলেন।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপক এনামুল হক জানান, ১০ সেপ্টেম্বর শিশুর বাবা ও মামা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান। আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে ছেলে সন্তান হবে বলে ধারণা করেছিলেন তারা। কিন্তু পরদিন সিজারের মাধ্যমে জন্ম হয় কন্যা সন্তানের। এরপর থেকেই বাবা সিরাজুল আর হাসপাতালে আসেননি। রোববার ছাড়পত্রের দিনও তিনি বা পরিবারের কেউ আসেননি। দূর সম্পর্কের এক আত্মীয় হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার এসআই শাহীন কবির বলেন, আসামি সুস্থ হয়ে যাওয়ায় আইন অনুযায়ী তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালতের আদেশ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না।

খুলনা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বোধন চন্দ্র বিশ্বাস (জিআরও-সদর) জানান, আদালতে শাহজাদীর পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না এবং কেউ জামিন আবেদনও করেননি। নিয়ম অনুযায়ী আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শিশুটির বিষয়ে পৃথকভাবে আদালতে কিছু বলা হয়নি। তবে প্রথা অনুযায়ী মানবিক বিবেচনায় নবজাতককে মায়ের সঙ্গেই থাকতে দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ