দিব্যতনু দাস, বাগেরহাট
ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য আজ শুক্রবার রাত ১২টার পর (৪ অক্টোবর) থেকে সাগর ও নদীতে ২২ দিনের জন্য ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞার কারণে সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা ট্রলার নিয়ে উপকূলে ফিরেছেন। আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে-পরে মিলিয়ে এ সময় ইলিশের ডিম ছাড়ার উপযুক্ত সময়। তাই প্রতিবছরের মতো এ বছরও মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। ইলিশের নিরাপদ প্রজননের জন্য এ সময় ইলিশ ক্রয়-বিক্রয়, বিপণন ও পরিবহনও নিষিদ্ধ থাকবে।
এদিকে শেষ দিনে ইলিশ কিনতে বাগেরহাটের একমাত্র সামুদ্রিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র কেবি মাছ বাজারে ভিড় জমিয়েছেন ক্রেতারা। তবে দাম চড়া হওয়ায় তারা হতাশ।
ভোর থেকেই কেবি বাজারে ইলিশ ক্রয়-বিক্রয় শুরু হয়। ফজরের নামাজের পর মুহূর্তেই ক্রেতা-বিক্রেতার হাকডাকে সরগরম হয়ে ওঠে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম এ মৎস্য আড়ৎ। অন্যান্য সময়ের তুলনায় খুচরা ক্রেতার ভিড় যেমন ছিল, তেমনি দামও ছিল অনেক বেশি। প্রতি কেজি ইলিশ অন্যান্য দিনের তুলনায় ১০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি বিক্রি হয়েছে।
- ১ কেজি থেকে ১.২ কেজি মাছ: ১৮০০–২২০০ টাকা কেজি
- ৮০০–৯০০ গ্রামের মাছ: ১৫০০ টাকা
- আধা কেজি মাছ: ১০০০ টাকা
- ৩০০–৪০০ গ্রামের মাছ: ৭০০–৮০০ টাকা
- ২০০ গ্রামের নিচের মাছ: ৪৫০–৫৫০ টাকা (যা আগে ছিল ২০০–৩০০ টাকা)
শুধু ইলিশ নয়, অন্যান্য মাছের দামও ছিল বেশি। ঢেলা চেলা, চাপিলা, তুলার ডাটি, রূপচাঁদা, কঙ্কণ, মেদ, মোচন গাগড়া, সাগরের বাইলা, লইট্টাসহ সব মাছই বিক্রি হয়েছে বেশি দামে। সাগরে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়া এবং চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় এমনটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রলার মালিকরা।
ট্রলার মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, “শুক্রবার থেকে সাগরে অবরোধ শুরু। এবার তেমন মাছ পাইনি। সাগর উত্তাল হওয়ায় অনেক ট্রলার শূন্য হাতে ফিরেছে। তাই যা পেয়েছি, তা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
সাগর থেকে ফেরা জেলে রফিকুল আমানি বলেন, “সাগরে কয়েকবার ঝড়ে পড়েছি, জাল ফেলতে পারিনি। আবার কাল থেকে ২২ দিনের অবরোধ—এভাবেই চলে আমাদের।”
মাছ ক্রেতা নারায়ণ বিশ্বাস ও জহিরুল ইসলাম মিঠু বলেন, “শুনেছিলাম কাল থেকে ইলিশ বিক্রি বন্ধ, তাই ভোরেই এসেছি। ভেবেছিলাম দাম কম হবে, কিন্তু হয়েছে উল্টোটা। আগে পিস হিসেবে বিক্রি হত, আজ কেজি হিসেবে হচ্ছে। দাম অনেক বেশি।”
পাইকারি ক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “সপ্তাহে দুই-তিন দিন এখান থেকে মাছ কিনে খুচরা বিক্রি করি। আজ যে দামে কিনলাম, তাতে খুচরো ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা কঠিন হবে।”
কেবি বাজার মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি শেখ আবেদ আলী জানান, শেষ সময়ে সবাই মাছ কিনতে চাইছে, তাই দাম বেশি। অনেকে আবার বেশি দামের আশায় অপেক্ষা করছেন। তবে রাতের আগেই সব বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “মা ইলিশ রক্ষায় ৪ অক্টোবর রাত থেকে ২২ দিনের জন্য সমুদ্র ও নদীতে ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। এ জন্য আমরা প্রচারণা চালিয়েছি। অবরোধ কার্যকর করতে দিন-রাত টহল থাকবে। এ সময়ে জেলেদের সরকারি সহায়তাও দেওয়া হবে।”








