দিব্যতনু দাস, বাগেরহাট
বাগেরহাটে তারুণ্যের আয়োজনে এক মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা সুশাসনের অঙ্গীকার করলেন। ‘তারুণ্যের স্বপ্ন, আমার মেনিফেস্ট, আমার ভবিষ্যৎ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটে তরুণদের নেতৃত্বে নির্বাচনী ইস্তেহার প্রণয়নের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সংলাপে তারা এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) দিনব্যাপী এক্টিভিস্টা বাগেরহাট ও রামপালের আয়োজনে এবং বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থা ও অ্যাকশনএইডের যৌথ উদ্যোগে জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বাগেরহাট-১ আসনের বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী এম এ সালাম, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রার্থী শেখ মঞ্জরুল হক রাহাদ, এনসিপি প্রার্থী সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শেখ জিল্লুর রহমান, বাগেরহাট-২ আসনের বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, এনসিপি প্রার্থী মোল্লা রহমত উল্লাহ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাও. মোশারেফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এএসএম মঞ্জুরুল হাসান মিলন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প সমন্বয়কারী সোহাগ হাওলাদার। একশনএইড বাংলাদেশের ইনস্পিরেটর নাহিদা ইসলাম তৃষা মনে করেন, “এই কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণ ও স্থানীয় জনগণের দাবি-দাওয়া আগামী নির্বাচনী ইস্তেহারে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হলো।”
বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বরগুনা, টেকনাফ ও চট্টগ্রাম জেলার তরুণদের অংশগ্রহণে এই উদ্যোগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে ও অংশগ্রহণমূলক প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করে একটি জনকেন্দ্রিক ও তরুণ নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী ইস্তেহার তৈরি করা হচ্ছে। ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জেলা পর্যায় পর্যন্ত ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন, কী ইনফরমেন্ট ইন্টারভিউ এবং স্টেকহোল্ডার পরামর্শসভার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের প্রকৃত চাহিদা ও অগ্রাধিকারগুলো চিহ্নিত করে তা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে যুবা ও নানা শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা সরাসরি প্রশ্ন করেন। অনুষ্ঠানে তরুণরা স্থানীয় সমস্যা ও দাবিসমূহ রাজনৈতিক নেতাদের সামনে তুলে ধরেন। আলোচনায় উঠে আসে—জলবায়ু সহনশীলতা, জীবিকা নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, নিরাপদ পানি, ক্রীড়া, জবরদখল-সন্ত্রাস-মাদক রোধ, অবকাঠামো উন্নয়নে স্বচ্ছতা, নারী অধিকারসহ নানা ইস্যু। তরুণরা জোর দিয়ে বলেন, তাদের কণ্ঠ যেন স্থানীয় উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিতে প্রতিফলিত হয়।
অনুষ্ঠানে এএসএম মঞ্জুরুল হাসান মিলন বলেন, “এই ধরনের অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া জনগণ ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে।” তিনি আরও বলেন, “এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো একটি তরুণ-অন্তর্ভুক্ত গণতন্ত্র গড়ে তোলা, যেখানে নির্বাচনী ইস্তেহার জনগণের প্রকৃত চাহিদা থেকে তৈরি হবে এবং নির্বাচনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যাবে।”
এক প্রশ্নের উত্তরে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, “আমাদের দল ক্ষমতায় গেলে যে কোনো জুলুমবাজি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন হবে। নারী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে না। কেউ বোরকা পরবেন কি পরবেন না, এটা তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত থাকবে।”
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী এম এ সালাম বলেন, “স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার করা হবে। মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলের পাশাপাশি পরিবেশের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকব।”








