দিব্যতনু দাস, বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়ন বিএনপির আসন্ন সম্মেলন পণ্ড করতে পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনের বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মেহেদী হাসান মিঠু।
সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির বর্তমান সভাপতি ও আসন্ন সম্মেলনে সভাপতি পদপ্রার্থী আব্দুল আলিম হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী অ্যাড. হুমায়ুন কবিরসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মেহেদী হাসান মিঠু বলেন, রামপাল উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টিতে বিএনপির সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের সম্মেলন বাকি রয়েছে। এ ইউনিয়নে আমার বাবা আব্দুল আলিম হাওলাদার সভাপতি পদে এবং অ্যাড. হুমায়ুন কবির সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন। তাদের জনপ্রিয়তা ও জয়ের সম্ভাবনা দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাজারুল ইসলাম সাজু এবং সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শামীম হাসান পলক পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা শুরু করেছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, গতকাল রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে সন্নাসী বাজার এলাকায় আমার বাড়ির সামনে প্রতিপক্ষ মানববন্ধনের আয়োজন করে। শুরুতে আমরা ভেবেছিলাম এটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। কিন্তু সাবেক যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম হাওলাদার ও বিএনপি নেতা ফিরোজ শেখের নেতৃত্বে প্রায় দুই শতাধিক লোক আমাদের বাড়ির গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে হামলা চালায়।
মিঠু আরও জানান, তারা জানতে পারে আমি বাড়িতে আছি, তখন হামলা আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল আমাকে হত্যা করা ও গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন লাগানো। এ উদ্দেশ্যে তারা পেট্রোল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসেছিল। হামলাকারীরা আমাদের বাড়ির গেট, জানালার কাঁচ, আসবাবপত্র, দোকানপাট, ইউনিয়ন বিএনপির অফিস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি পর্যন্ত ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হন, যাদের অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মিঠু জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় তিনি প্রাণে রক্ষা পেয়ে বাগেরহাট শহরে চলে আসেন। তবে এখনো তার পরিবার ও বাবার অনুসারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
তিনি বলেন, সোমবার সকাল ও বিকেলে প্রতিপক্ষের লোকজন আবারও বাজারের দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে। আমাদের রান্নাঘরও ভেঙে দিয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, যেন আমাদের বাড়িতে কোনো মালামাল বিক্রি না করে।
মিঠু অভিযোগ করেন, এই সহিংসতা শুধু ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে নয়, বরং পুরো উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বকে কেন্দ্র করেই ঘটানো হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান তুহিনের অনুসারীরা ৮টি ইউনিয়নে জয়ী হয়েছেন, আর প্রতিদ্বন্দ্বী সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলামের অনুসারীরা জয় পেয়েছে মাত্র একটিতে। তাই মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের সম্মেলন বানচাল করে উপজেলা বিএনপির সম্মেলন স্থগিত করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী হাসান মিঠু বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটির কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পাশাপাশি, এলাকাবাসীর জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।








