,

বাগেরহাটে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সংলাপ অনুষ্ঠিত

দিব্যতনু দাস, বাগেরহাট

বাগেরহাটে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে “দ্বন্দ্ব নিরসন ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা” শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের দশানী ধানসিঁড়ি মিলনায়তনে এ সংলাপের আয়োজন করে অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাট ও রামপাল। অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করে বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থা এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ।

বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক এএসএম মনজুরুল হাসান মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. মুস্তাফিজুর রহমান।

সংলাপে বক্তারা বলেন, সামাজিক সম্প্রীতি টিকিয়ে রাখতে সমাজের সব অংশের মানুষকে একসাথে কাজ করতে হবে। দ্বন্দ্ব নিরসন ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতার বিকল্প নেই। তরুণ প্রজন্মকে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক তরফদার রবিউল ইসলাম, কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) জেলা সভাপতি বাবুল সরদার, বাগেরহাট পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রদীপ বসু সন্তু, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক শিমুল চন্দ্র রায়, ইমাম সমিতির সহকারী সেক্রেটারি মহিবুল্লাহ আজাদ, পৌরসভার সাধারণ সম্পাদক মো. বশির উদ্দিন, যুব সংগঠক গোবিন্দ চন্দ্র হাদার, সাজ্জাদুল ইসলাম রাকিব, মো. মাহফুজ, উর্মি কুলসুম, আবিদ হাসান মুন্না, শেখ ইমরান, শারমিন খাতুন প্রমুখ। এছাড়া বাগেরহাট রামকৃষ্ণ আশ্রমের মহারাজ সৌভিক, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সচিববৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ইনস্পিরেটর নাহদা ইসলাম তৃষা বলেন, “সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় তরুণদের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। তাদের সক্রিয় ভূমিকা সমাজকে সংঘাতমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ করতে বড় ভূমিকা রাখবে।”

সংলাপে বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার রামপাল ও বাগেরহাটের বিভিন্ন যুব গ্রুপের অর্ধশতাধিক যুব প্রতিনিধি অংশ নেন। তারা সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, সম্প্রীতি কেবল ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে তা লালন ও চর্চা করতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে সমানভাবে মর্যাদা দেওয়ার মাধ্যমেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব।

সংলাপের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীরা সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। এসময় প্রদীপ বসু সন্তুকে আহ্বায়ক ও মাওলানা বশির উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ