শনিবার, ১৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাগেরহাটে ৪টি সংসদীয় আসন বহাল : জেলাব্যাপী মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল

দিব্যতনু দাস, বাগেরহাট

বাগেরহাট জেলার সংসদীয় আসন চারটি বহাল রাখার আদেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১০ নভেম্বর) হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। এ খবরে জেলাব্যাপী দলমত নির্বিশেষে সবার মধ্যে আনন্দের ঢেউ বইছে, চলছে মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন বহাল রাখতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি আসন করে নির্বাচন কমিশনের গেজেট কেন অবৈধ হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের আগামী ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল। সেদিন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মুহাম্মদ জাকির হোসেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট বিপ্লব কুমার পোদ্দার, অ্যাডভোকেট ফয়সাল মোস্তফা, অ্যাডভোকেট রাজিয়া সুলতানা, ব্যারিস্টার কাজী সামান্তা এনাম, অ্যাডভোকেট আমিনুজ্জামান সোহাগ, অ্যাডভোকেট এনামুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ও অ্যাডভোকেট তানভীর আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইকরামুল কবির।

এর আগে বাগেরহাট প্রেসক্লাব, জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা বিএনপি, জেলা জামায়াতে ইসলামী, জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জেলা ট্রাক মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন বাগেরহাটে চারটি আসন বহালের দাবিতে দুটি রিট দায়ের করে। রিটে সরকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিবাদী করা হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন প্রাথমিকভাবে বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দেয়। এর বিরোধিতা করে স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলো সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি গঠন করে আন্দোলনে নামে।

তাদের দাবি সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে বাগেরহাটকে তিন আসনে ভাগ করে। এরপর থেকেই সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি হরতাল, অবরোধ, অবস্থান ও বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, আসন পুনর্বিন্যাসে জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে।

চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী, বাগেরহাট সদর, চিতলমারী ও মোল্লাহাট নিয়ে বাগেরহাট-১; ফকিরহাট, রামপাল ও মোংলা নিয়ে বাগেরহাট-২ এবং কচুয়া, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা নিয়ে বাগেরহাট-৩ গঠিত হয়েছে।

১৯৬৯ সাল থেকে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচন হয়ে আসছিল। সে অনুযায়ী বাগেরহাট-১ ছিল চিতলমারী-মোল্লাহাট-ফকিরহাট; বাগেরহাট-২ ছিল বাগেরহাট সদর-কচুয়া; বাগেরহাট-৩ ছিল রামপাল-মোংলা এবং বাগেরহাট-৪ ছিল মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা।

উচ্চ আদালতের এ সিদ্ধান্তে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম, সাবেক সভাপতি এম. এ. সালাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান দিপু, বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আলম, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করিম, জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল ওয়াদুদ, সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস, মঞ্জুরুল হক রাহাত, বিএনপি নেতা শাহেদ আলী রবি ও সৈয়দ নাসির উদ্দিন মালেক প্রমুখ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

তাঁদের ভাষায়, “এ সিদ্ধান্তে উপকূলীয় জেলা নারী-পুরুষ-যুবা নির্বিশেষে বাগেরহাটের ১৮ লাখ মানুষের জয় হয়েছে। আমরা আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি।” তাঁরা দ্রুত নির্বাচন কমিশনের কাছে চারটি আসন বহাল রেখে গেজেট প্রকাশের আহ্বান জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ