রবিবার, ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাগেরহাটে ৪ আসন বহাল দাবিতে নির্বাচন অফিস ঘেরাও

দিব্যতনু দাস, বাগেরহাট

বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহালের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো জেলা নির্বাচন অফিস ঘেরাও করেছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতাকর্মীরা। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে তারা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে প্রধান ফটক ঘিরে ফেলে। ফলে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিসে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। ঘেরাও কর্মসূচি চলে দুপুর পর্যন্ত।

এদিকে, বাগেরহাটে চারটি আসন বহাল রাখতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে একটি আসন কমিয়ে তিনটি করার নির্বাচন কমিশনের গেজেট কেন অবৈধ হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

বাগেরহাটের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার শেখ মুহাম্মদ জাকির হোসেনসহ কয়েকজন আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেন। এর আগে বাগেরহাট প্রেসক্লাব, জেলা আইনজীবী সমিতি, জেলা বিএনপি, জেলা জামায়াতে ইসলামী, জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জেলা ট্রাক মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ব্যারিস্টার জাকির হোসেন রিট করেন। এছাড়া চিতলমারী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইসলামী আন্দোলন মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুজিবর রহমান শামীমের পক্ষ থেকেও দুটি রিট করা হয়েছে। আরও কয়েকটি রিট দাখিল হবে বলে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি জানিয়েছে।

ব্যারিস্টার জাকির হোসেন বলেন, “আমরা রিট করেছি। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনেছেন এবং ১০ দিনের রুল জারি করেছেন। আশা করি আদালতে ন্যায়বিচার পাব এবং চারটি আসন বহাল থাকবে।”

সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতারা জানান, দুর্গাপূজার কারণে হরতালের কর্মসূচি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে নির্বাচন অফিস ঘেরাও ও আইনি লড়াই অব্যাহত থাকবে।

কমিটির সদস্য সচিব ও জামায়াতে ইসলামী বাগেরহাট জেলার সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, “দুর্গাপূজা, ব্যবসায়ীদের ক্ষতি ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বিবেচনা করে আমরা হরতাল স্থগিত করেছি। আদালত রুল জারি করেছেন। যদি চারটি আসন ফেরত না পাই, আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটের চারটি আসনের মধ্যে একটি কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দেয় নির্বাচন কমিশন। পরে ৪ সেপ্টেম্বর সীমানা কিছুটা পরিবর্তন করলেও আসনের সংখ্যা তিনটিই রাখা হয় এবং চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

চূড়ান্ত গেজেট অনুযায়ী—

  • বাগেরহাট-১: সদর-চিতলমারী-মোল্লাহাট
  • বাগেরহাট-২: ফকিরহাট-রামপাল-মোংলা
  • বাগেরহাট-৩: কচুয়া-মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা

এর আগে দীর্ঘদিন ধরে চারটি আসনে নির্বাচন হয়ে আসছিল। তখনকার সীমানা ছিল—

  • বাগেরহাট-১: চিতলমারী-মোল্লাহাট-ফকিরহাট
  • বাগেরহাট-২: সদর-কচুয়া
  • বাগেরহাট-৩: রামপাল-মোংলা
  • বাগেরহাট-৪: মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ