দিব্যতনু দাস, বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে একটি কমিয়ে তিনটি করার নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো জেলা। এ প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে রবিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে বাগেরহাট শহরের দশানী ট্রাফিক মোড়ে সর্বদলীয় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে নেতৃবৃন্দ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসানের হাতে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এর আগে সকাল থেকেই জেলা সদরসহ প্রতিটি উপজেলায় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ছাত্র, পেশাজীবীসহ সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একাধিক সভা ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সবখানেই ছিল এক দাবি—বাগেরহাটের চারটি আসন অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
জেলা সদর উপজেলার প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম। সেখানে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম.এ সালাম, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, সেক্রেটারি মাওলানা ইউনুস আহমেদ, জামায়াতের নায়েবে আমির এ্যাড. আব্দুল ওয়াদুদ, যুব বিভাগের সভাপতি শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রমিজ উদ্দিন, ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ উল্লাহ আরেফী, বিএনপি নেতা এ্যাড. ওহিদুজ্জামান দিপু, মুজিবর রহমান, ড. ফরিদুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম গোরা, শাহেদ আলী রবি, সৈয়দ নাসির আহম্মেদ মালেক, যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা, খেলাফত মজলিসের সভাপতি আমিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সভাপতি এস.এম. সাদ্দাম এবং এনসিপির আহ্বায়ক মোর্শেদ আনোয়ার সোহেল।

বক্তারা বলেন, “বাগেরহাট জেলার ১৮ লাখ মানুষের ইচ্ছা উপেক্ষা করে সংসদীয় আসন কমানোর প্রস্তাব অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। জন্মলগ্ন থেকে বাগেরহাটে চারটি আসন রয়েছে, কোনো পূর্বপরামর্শ ছাড়াই এই ঐতিহাসিক কাঠামো ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে।” তারা আরও জানান, “আজ শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করেছি, আগামীকালও কর্মসূচি থাকবে। এরপরেও দাবি না মানা হলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সারা দেশ থেকে বাগেরহাটকে বিচ্ছিন্ন করার কর্মসূচিও ঘোষণা করা হতে পারে।”
আন্দোলনকারীরা জানান, জেলা প্রশাসক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের কাছে আরও স্মারকলিপি পাঠানো হবে। প্রস্তাব প্রত্যাহার না হলে রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।








