সোমবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রামপালে বিএনপির সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ আহত ৩০ : দোকান-বাড়ি ভাঙচুর

দিব্যতনু দাস, বাগেরহাট প্রতিনিধি:

বাগেরহাটের রামপালে ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন সাংবাদিকও রয়েছেন। রোববার (৩ আগস্ট) বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক দফায় সংঘর্ষ চলে। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজনকে মারধরের পাশাপাশি বাজারের অন্তত ২০টি দোকান ও কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রামপাল উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে দুই সভাপতি প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এর আগেও একাধিকবার হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (২ আগস্ট) রাতে ইউনিয়নের বেতবুনিয়া পাকা রাস্তার মোড়ে সভাপতি প্রার্থী আব্দুল আলিমের লোকজন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শামীম হাসান পলকসহ ১১ জনকে মারধর করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে রাতেই বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে রোববার বিকেলে প্রতিদ্বন্দ্বী সভাপতি প্রার্থী সাজারুল ইসলাম সাজু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শামীম হাসান পলকের সমর্থকেরা পুলিশের অনুমতিতে মানববন্ধনের আয়োজন করেন। তবে মানববন্ধন শুরু হওয়ার আগেই আব্দুল আলিম হাওলাদারের সমর্থকেরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে সাজারুল ইসলাম সাজুসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে সাজারুল ইসলামের সমর্থকেরা পাল্টা হামলা চালিয়ে আব্দুল আলিমের বসতবাড়ি ও সন্ন্যাসী বাজারের প্রায় ২০টি দোকানে ভাঙচুর চালান।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সন্ন্যাসী বাজারে দেখা যায়, পুলিশের সামনেই সাজারুল ইসলাম সাজু, সাবেক যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম ও তাদের লোকজন একাধিকবার আব্দুল আলিমের সমর্থকদের ধাওয়া করে মারধরের চেষ্টা করছেন। তারা বাজারের বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর করছেন। বিপরীত দিকে, বাজার সংলগ্ন ভবনের ছাদ থেকে আব্দুল আলিমের সমর্থকেরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করছেন।

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আতিকুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। যদিও কিছু সময় শান্ত থাকলেও, পরে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয় এবং পুলিশের সামনেই আব্দুল আলিমের বাড়ি ও দোকানপাটে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে সন্ধ্যার আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওসি মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি পরিস্থিতি শান্ত রাখতে। উভয় পক্ষই ইট-পাটকেল ছুড়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন, তাদের চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।”

সাবেক যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের প্রার্থী সাজারুল ইসলাম সাজু ও শামীম হাসান পলক ব্যাপক জনপ্রিয়। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা বুঝতে পেরেছে তারা হারবেন, তাই নির্বাচন বানচাল করতে হামলা চালিয়েছে।”

মল্লিকেরবেড় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব অভিযোগ করে বলেন, “পুলিশের সামনেই আব্দুল আলিমের লোকজন অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”

আহত সভাপতি প্রার্থী সাজারুল ইসলাম সাজু বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু প্রতিপক্ষ অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে আহত করেছে।”

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য বারবার ফোন করা হলেও সভাপতি প্রার্থী আব্দুল আলিম হাওলাদার ফোন রিসিভ করেননি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ