শনিবার, ৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ দুই জলদস্যু আটক

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্থানীয় গ্রামবাসীর সহায়তায় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ দুই জলদস্যুকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে সুন্দরবন সংলগ্ন গাবুরা ইউনিয়নের ২ নম্বর গাবুরা খেয়াঘাট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—খুলনার কয়রা থানার ইমানপাড়া গ্রামের ইব্রাহিম গাজীর ছেলে বিল্লাল হোসেন (৩৩) এবং দাকোপ থানার জয়নগর গ্রামের মৃত জয়নাল গাজীর ছেলে আযহারুল ওরফে খানজাহান (৩৬)।

শ্যামনগর থানা পুলিশ জানায়, তাদের কাছ থেকে ট্রিগার সাদৃশ্য লোহার দণ্ড, ছোট-বড় প্রায় ২২টি স্প্রিং, কুড়ালসহ আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক বিল্লাল এর আগে সুন্দরবনের কুখ্যাত ‘দাদাভাই বাহিনী’র সদস্য হিসেবে সক্রিয় ছিল। প্রায় ১০ মাস আগে কোস্টগার্ডের হাতে অস্ত্রসহ ধরা পড়ে সে কারাগারে যায়। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর পুনরায় দস্যু কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে বলে পুলিশ জানায়।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “শুক্রবার রাতে বিল্লাল ও আযহারুল কয়রার কাশির খেয়াঘাট হয়ে কপোতাক্ষ নদ পার হয়ে গাবুরা এলাকায় পৌঁছায়। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাদের তল্লাশি চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।”

তিনি আরও জানান, আটক দুজনের বিরুদ্ধে কয়রা, পাইকগাছা, দাকোপ ও সোনাডাঙ্গা থানায় একাধিক অস্ত্র ও ডাকাতির মামলা রয়েছে। নতুন মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে স্থানীয় বনজীবীরা জানিয়েছেন, গত এক বছরে সুন্দরবনে পর্যায়ক্রমে আলিম, দুলাভাই ও জাহাঙ্গীর বাহিনী সক্রিয় হয়েছে। বিল্লাল ও আযহারুল সুন্দরবনের দাতিনাখালী এলাকার জলদস্যু জাহাঙ্গীরের আস্তানায় যাওয়ার পথে আটক হয়। তারা পূর্বে ‘দাদাভাই বাহিনী’ নামে দস্যুতা করতো।

অন্যদিকে আটক আযহারুল দাবি করেছেন, বিল্লাল তাকে কাজ দেওয়ার নামে ডেকে এনেছিল। তবে বিল্লাল বলেছেন, তিনি কাজের সন্ধানে যশোরে যাচ্ছিলেন। আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম বা ২০ প্যাকেট সিগারেট বহনের বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ