,

নান্দাইলে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

এ.টি.এম. হুমায়ুন কাদির, নান্দাইল (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল হাই-এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে প্রকাশিত “দুর্নীতি, অনিয়ম ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন” শিরোনামের সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর বলে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১১টার সময় পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল হাই বলেন,
“আমার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ নিছক ষড়যন্ত্র ও ব্যক্তিগত বিদ্বেষের ফসল। আচারগাঁও ফাজিল মাদ্রাসার সুনাম ক্ষুণ্ণ করা এবং আমার দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রম ও সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন,
“১৯৮৬ সালে নিভিয়াঘাটা ফাজিল মাদ্রাসায় আমি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে যোগদান করেছিলাম। জাল সনদ ব্যবহার বা অবৈধভাবে চাকরি গ্রহণের অভিযোগ একেবারেই মিথ্যা ও বানোয়াট। পরবর্তীতে সরকার অনুমোদিত নিয়মে বদলির মাধ্যমে আচারগাঁও মাদ্রাসায় যোগদান করি এবং শিক্ষকতার পাশাপাশি মাদ্রাসার উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।”

অধ্যক্ষ আব্দুল হাই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“১৯৯৫ সালে আমি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার ছিলাম এবং গভর্নিং বডির অনুমোদন ও শিক্ষাবোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পাই। এতে কোনো নিয়মভঙ্গ হয়নি। টিউশন ফি বা সরকারি বরাদ্দের কোনো অর্থ আত্মসাত করা হয়নি। মাদ্রাসার সমস্ত হিসাব নিরীক্ষা বোর্ড ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে।”

তিনি আরও জানান,
“মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক কাজগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ও পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে সম্পন্ন করা হয়। জমি বিক্রি, বন্ধক রাখা বা জাল স্বাক্ষরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য। বরং এসব মিথ্যা প্রচার করে একটি মহল নিজেদের অনিয়ম ঢাকতে চাইছে।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,
“আমি আজীবন শিক্ষকতা পেশাকে সৎভাবে লালন করেছি। মিথ্যা অপপ্রচারের মাধ্যমে আমার ব্যক্তিগত ও পেশাগত মর্যাদা নষ্টের চেষ্টা চলছে। আমি প্রশাসনের নিকট অনুরোধ করছি—উক্ত অভিযোগসমূহের সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্য উদঘাটন এবং যারা মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— মোঃ তাজুল ইসলাম, সুপার- ধুরুয়া ডিএস দাখিল মাদ্রাসা; মোঃ আসাদ উল্লাহ, অধ্যক্ষ- বাকচান্দা ফাজিল মাদ্রাসা; মোঃ ওয়াকিব মিয়া, অধ্যক্ষ- নান্দাইল কাঠলীপাড়া আলিম মাদ্রাসা; মোঃ আ. আহাদ, সহকারী শিক্ষক- রাজাপুর ফাজিল মাদ্রাসা এবং মোঃ শফিউল্লাহ, সহকারী অধ্যাপক- ঘোষপালা ফাজিল মাদ্রাসা, সহ মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক, স্থানীয় অভিভাবক প্রতিনিধি ও এলাকার সুধীজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ