সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পানির দামে বিক্রি হচ্ছে রাজশাহীর মিষ্টি পান

জাহিদুল ইসলাম, দূর্গাপুর, রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহীর দুর্গাপুরে পানের বাজারে ভয়াবহ ধস নেমেছে। এতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন এলাকার পান চাষিরা। অনেকেই লিজ বা বর্গা নেওয়া জমিতে পান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু হঠাৎ করে দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় তারা এখন চরম হতাশায় ভুগছেন।

দুর্গাপুরের পান চাষি আব্দুল মান্নান জানান, “এ বছরের শুরুতে অতিবৃষ্টি ও নানা রোগ-বালাইয়ের পরও অনেক কষ্ট করে ভালো ফলন পেয়েছি। কিন্তু বাজারে এখন সেই পানের কোনো দাম নেই। আগে যে মোটা ও বড় আকৃতির পানের প্রতি বিড়ি (২০টি পান) ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ১৫ থেকে ৩০ টাকায় নামিয়ে এনেছে। মাঝারি ও চিকন পান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ থেকে ৫ টাকায়, আবার অনেক সময় সেগুলো ক্রেতারাও নিতে চায় না।”

মাড়িয়া ইউনিয়নের অভিজ্ঞ পান চাষি আব্দুল মোতালেব বলেন, “আমি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে পান চাষ করছি। এমন বাজার কখনো দেখিনি। যদি এই অবস্থা চলতে থাকে, তাহলে বাধ্য হয়ে বরজ তুলে ফেলতে হবে। বর্তমান বাজারে শুধু নিজের খরচই নয়, বরজের খরচই উঠছে না।”

চৌবাড়িয়া গ্রামের চাষি রুস্তম মিয়া জানান, “গত বছর এক বিঘা জমি বছরে ৪০ হাজার টাকায় লিজ নিয়েছিলাম। তাতে বরজ করেছি, খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। এখন যে দামে পান বিক্রি হচ্ছে, তাতে মূলধন তো দূরের কথা, লিজের টাকাই তুলতে পারব কিনা জানি না।”

পান ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, “দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন আড়তে—যেমন শ্যামপুর, আলিপুর, গোপালপুর, নারায়ণপুর, দাওকান্দি ও কালিগঞ্জ—সপ্তাহে ছয় দিন পান কেনাবেচা হয়। এসব আড়তে আগে যেখানে প্রতি সপ্তাহে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার লেনদেন হতো, বর্তমানে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে।”

বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, যদি সময়মতো পান চাষিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না করা হয়, তবে তারা পান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন। এতে দেশীয় মিষ্টি পানের উৎপাদন বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভিন লাবনী জানান, “দুর্গাপুরে বর্তমানে প্রায় ১২.৫০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে। পান একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল হওয়ায় এর দামে ওঠানামা স্বাভাবিক। বর্ষাকালে উৎপাদন বাড়ায় বাজারে দাম কিছুটা কম থাকে। তবে শীত মৌসুমে দাম আবার বাড়ে। তখন কৃষকেরা তাদের খরচের কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছি।”

পান চাষিদের চোখে এখন শুধুই অনিশ্চয়তা। বাজারের এমন ধস থেকে ঘুরে দাঁড়াতে সরকারি সহযোগিতা ও সময়োপযোগী নীতির দাবিও উঠছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের কণ্ঠে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ