,

রাজশাহীর তাজা মাছ সারাদেশে বিক্রি হচ্ছে

জাহিদুল ইসলাম, দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

রাজশাহীর তাজা মাছ সারাদেশে বিক্রি হচ্ছে। তাজা মাছ বিক্রিতে রাজশাহী মধ্যেই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে দুর্গাপুর উপজেলা। প্রতিদিন প্রায় এক কোটি টাকার বেশি মূল্যের তাজা মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে দুর্গাপুরের মাছচাষিরা লাভবান হচ্ছেন এবং ক্রেতারা ফরমালিনমুক্ত তাজা মাছ পাচ্ছেন।

এই উপজেলার মাছচাষের সফলতার পেছনে রয়েছে একটি দীর্ঘ গল্প। প্রায় দুই যুগ আগে থেকেই তাজা মাছ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহসহ প্রায় ২৫–৩০ জেলায় প্রতিদিন মাছ পাঠানো হয়। ফলে রাজশাহীর বাইরের মানুষও ফরমালিনমুক্ত মাছ খেতে পারছে এবং এই অঞ্চলে তাজা মাছের চাহিদা বাড়ছে।

দুর্গাপুরের হাট কানপাড়া গ্রামের সেলিম রেজা বলেন, “আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে মাছ চাষ করি। রাজশাহীর ভেতরে আমরা প্রথম তাজা মাছ বাইরে সরবরাহ করেছি। সত্যি বলতে, আগে তো নদীর মাছ ছাড়া বাইরে তাজা মাছ দেখা যেত না। আমরা দুর্গাপুরবাসী প্রথম রাজশাহী বিভাগের বাইরে তাজা মাছ বিক্রি করেছি।”

সূত্র জানায়, প্রতিদিন বিকেল থেকে ভোররাতের মধ্যে ৪৫–৫০টি ট্রাক তাজা মাছ নিয়ে দুর্গাপুর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়। প্রতিটি ট্রাকে ৭০০–৮০০ কেজি মাছ থাকে। বর্তমানে উপজেলার ২০,০০০-এর বেশি মানুষ মাছচাষ পেশায় সম্পৃক্ত।

উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য আড়তদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন শুধু পুকুর থেকে নয়, আড়ত থেকেও তাজা মাছ বের হয়ে দুর্গাপুর থেকে বাইরে যায়। আড়তদার রেন্টু বলেন, “আমরা আড়তে তাজা মাছ কিনি। সেই মাছ হাউজ বা ট্যাঙ্কে সংরক্ষণ করি। পরে ট্রাকযোগে বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করি। এতে তাজা মাছের লাভও দ্বিগুণ হয়।”

দুর্গাপুর উপজেলা মৎস্য অফিস জানায়, উপজেলায় সরকারি পুকুর রয়েছে ৩৮৯টি, মোট জমির পরিমাণ ১৬৪ হেক্টর, এবং মাছের উৎপাদন ৮৫৬ মেট্রিক টন। বেসরকারি মালিকানায় পুকুর রয়েছে ৫,৯১১টি, জমির পরিমাণ ৩,৮২৬ হেক্টর, এবং মাছের উৎপাদন ১৯,৮৩২ মেট্রিক টন। দুর্গাপুরে বার্ষিক মাছের চাহিদা ৪,৩৩০ মেট্রিক টন, অথচ মোট উৎপাদন ২০,৩৪৯ মেট্রিক টন। অর্থাৎ উদ্বৃত্ত ১৬,০১৯ মেট্রিক টন মাছ বাইরে সরবরাহ করা হয়।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ তানজিমুল ইসলাম বলেন, “দুর্গাপুরে মাছ চাষের ফলে অনেক বেকার যুবক স্বাবলম্বী হয়েছে। চাষীদের নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। কয়েক বছরে দুর্গাপুরে মাছের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। এখন উপজেলার উদ্বৃত্ত মাছ দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাকযোগে রপ্তানি করা হচ্ছে। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় হচ্ছে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ