মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সোনালী আঁশে সোনালী দিন ফিরেছে দুর্গাপুরের কৃষকের জীবনে

জাহিদুল ইসলাম, দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:

রাজশাহীর দুর্গাপুরে পাটের বাম্পার ফলন ও বাজারে ভালো দামের কারণে কৃষকের মুখে ফিরেছে হাসি। একদিকে আশানুরূপ ফলন, অন্যদিকে মনপ্রতি ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা বেশি দামে বিক্রির সুযোগ—সব মিলিয়ে কৃষকদের মাঝে বিরাজ করছে আনন্দ ও স্বস্তি।

গত দুই সপ্তাহ ধরে দুর্গাপুরের বিভিন্ন হাটে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। কৃষকেরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবারে মনপ্রতি ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা বেশি দামে পাট বিক্রি করতে পেরেছেন। পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে পাট জাগ দেওয়ায় তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। ফলে এ মৌসুমে পাট চাষে কৃষকেরা বেশ সন্তুষ্ট।

পাটকে ‘সোনালী আঁশ’ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও অতীতে প্রতিকূল আবহাওয়া ও কম দামের কারণে কৃষকেরা ধীরে ধীরে এ চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভালো দাম পাওয়ায় আবারও পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে। গত বছর নতুন পাটের দাম ছিল মনপ্রতি ২,২০০ থেকে ২,৬০০ টাকা। এবার কৃষকেরা বিক্রি করছেন ৩,২০০ থেকে ৩,৮০০ টাকা মনপ্রতি। এছাড়া বাড়তি অংশ (পাতা ও ছাল) মনপ্রতি ১,৪০০ থেকে ১,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক ওয়াইজুল আলী বলেন,
“এবার আমরা পেঁয়াজের জমিতে পাট চাষ করেছি। পেঁয়াজে প্রচুর সার ও ওষুধ ব্যবহারের পর ওই জমিতে পাট বপন করায় ফলন ভালো হয়েছে। সার ও ওষুধ কম লেগেছে, বৃষ্টির কারণে সেচ খরচও বাড়েনি। আবহাওয়ার অনুকূলে থাকায় রোগবালাইও তুলনামূলক কম হয়েছে।”

সিংগা গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক জানান,
“এবার বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ মন পাট হয়েছে। আমি ৩ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি, ফলন ভালো। বর্ষা আগেই শুরু হওয়ায় পানি পাওয়া গেছে, জাগ দেওয়ার কোনো সমস্যা হয়নি। যদিও পরিশ্রম বেশি, কিন্তু বাজারে ভালো দাম পেয়ে লাভ হয়েছে।”

পাট ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের শুরুতে হাটে ভালো মানের পাট উঠছে। এক সপ্তাহ আগে মনপ্রতি দাম ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। যদিও গত হাটে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কমেছে, তবে কৃষকেরা এখনও খুশি। তবে সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন,
“এবার দুর্গাপুরে প্রায় ১,৫০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। আবহাওয়া, ফলন ও দামের দিক থেকে কৃষকেরা লাভজনক অবস্থায় আছেন। এখনো সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি, আরও তিন-চার সপ্তাহ পর বাজার স্থিতিশীল হবে। তবে বাজারে চাহিদা আছে, ফলে কৃষকেরা এ মৌসুমে লাভবান হবেন।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ