রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বগুড়ায় নীতিমালা উপেক্ষা করে শিক্ষক নিয়োগ

(নতুন উপাধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান রজিব আওয়ামী লীগ নেতাকে ফ্যাসিস্ট আমলে ফুলের মালা পরিয়ে দেন। এখন তিনি বিএনপি নেতা)

পথে প্রান্তরে অনলাইন ডেস্ক:

বগুড়া পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নীতিমালা ও জনবল কাঠামোর লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, কলেজের উপাধ্যক্ষ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা মানা হয়নি।

জানা গেছে, বিধি-বিধান অমান্য করে উপাধ্যক্ষ পদ সৃষ্টি করে কলেবর বাড়ানো হয়েছে, অথচ এ পদের বাস্তব প্রয়োজন নেই। প্রায় অর্ধশত শিক্ষক লিখিতভাবে এ বিষয়ে জানালেও, রাজনৈতিক প্রভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তরা আওয়ামী লীগের অনুসারী।

বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মো. হাবিবুর রহমান রজিবকে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে তার নাম তালিকায় ১১ নম্বরে ছিল। মে মাসে গভর্নিং বডি তার নিয়োগ অনুমোদন দেয় এবং ইতোমধ্যে তার অফিসও সুসজ্জিত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবাদী শিক্ষকদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার চাপও প্রয়োগ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, চলতি বছরের জুলাইয়ে কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পাঁচ পরীক্ষার্থী সবেই অকৃতকার্য হন। তবে পাঁচ শিক্ষকের উপস্থিতিতে সবাইকে গ্রেস দিয়ে পাস করানো হয়। জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুসারে এই বিভাগের শিক্ষকদের এমপিও বাতিল হতে পারতো।

এছাড়া মো. আলমগীর হোসেনকে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তার প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অনুসারী। ফেব্রুয়ারি মাসে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়, তবে পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী মনজুরুল হক বলেন, “নিয়োগ প্রক্রিয়া ঠিক রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষ নিয়োগের ফাইল সভাপতির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।” বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী বলেন, “নিয়োগ পরীক্ষা মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। ২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে তিনি প্রথম হয়েছেন।”

উপাধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান রজিব দাবি করেন, “আমি দীর্ঘদিন চাকরি করছি এবং যোগ্য। তবে ১১ জনকে অতিক্রম করে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আমি জানি না।”

একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, গভর্নিং বডির সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আসাদুজ্জামান প্রতিটি সভায় উপস্থিত থাকেন এবং রজিবের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। তিনি জানান, “স্কুল সভাপতির অনুরোধে অনেক কাজ বাধ্যতামূলক করতে হয়েছে।”

বগুড়া পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি মো. জেদান আল মুসা পিপিএম বলেন, “আগামীতে স্কুলের প্রতি আমরা যত্নশীল হব। স্কুল ভবন নির্মাণের কাজ অচিরেই শুরু হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ