শনিবার, ২০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সীমান্তে আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু, বিএসএফের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ

(ফাইল ছবি)

পথে প্রান্তরে ডিজিটাল ডেস্ক:

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে আরও দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (২ আগস্ট) শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের নিশিপাড়া ও বিশরশিয়া এলাকার পদ্মা নদীতে ভাসমান অবস্থায় দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন শিবগঞ্জের মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর-হঠাতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা সেরাজুল ইসলামের ছেলে শফিকুল ইসলাম (৪৫) এবং গোলাম মর্তুজার ছেলে সেলিম রেজা (৩৭)। স্থানীয়দের দাবি, তারা দু’জনই পেশায় জেলে ছিলেন।

এর আগে, গত ২৮ জুলাই রাতে একই সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ সৈবুর আলী নামে এক বাংলাদেশি রাখালকে গুলি করে হত্যা করে এবং তার মরদেহ পদ্মা নদীতে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ৩১ জুলাই রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকায় পদ্মা নদী থেকে সৈবুরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নিহত শফিকুল ও সেলিম ওই রাতে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন মাধ্যমে ভারতে তাদের খোঁজ চালিয়েও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। শনিবার বিকেলে জেলেরা পদ্মার মাঝপথে মরদেহ দুটি ভাসতে দেখে স্থানীয় প্রশাসনকে জানায়।

তবে নিহতরা মাছ ধরতে গিয়েছিলেন নাকি চোরাপথে গরু আনতে ভারতে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। একাংশের দাবি, তারা গরু আনতে ভারতে গিয়েছিলেন এবং ধুলিয়ান ঘাট এলাকা থেকে পদ্মা নদী পথে ফেরার সময় বিএসএফের স্পিডবোটে ধাওয়া খেয়ে ধরা পড়েন। পরে তাদের হত্যা করে পদ্মায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

মনাকষা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সমির উদ্দিন বলেন, “সম্ভবত তারা মাছ ধরতে গিয়েই স্রোতের টানে ভারতের দিকে drift করে গিয়েছিলেন। বিএসএফ তাদের চোরাকারবারি সন্দেহে আটক করে হত্যা করে থাকতে পারে।”

শিবগঞ্জ থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, “পদ্মা নদীতে ভাসমান মরদেহ দুটি দেখে পুলিশকে খবর দেয় বিজিবি। মরদেহে পচন ধরায় আঘাতের চিহ্ন স্পষ্ট নয়। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু বলেন, “মাসুদপুর ক্যাম্পের আওতাধীন এলাকায় দু’টি মরদেহ পাওয়া যায়। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। তবে নিহতদের পরিবার থেকে আমাদের সঙ্গে কেউ এখনও যোগাযোগ করেনি। আমরা স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতের ৭১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তারা কোনো ধরনের হত্যার দায় অস্বীকার করেছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন নিহতদের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

এই বিভাগের আরও সংবাদ >

সর্বশেষঃ