নিজস্ব প্রতিনিধি:
পাবনার সুজানগর উপজেলার পদ্মা নদীতে দেখা মিলেছে একটি বিরল প্রজাতির মিঠা পানির কুমিরের। হঠাৎ কুমিরটি চোখে পড়ার পর থেকেই এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ। গত চার-পাঁচদিন ধরে নদীতে নামা বন্ধ রেখেছেন অনেক মৎস্যজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দা।
উপজেলার চর মানিকদীর মাদারতলা এলাকায় প্রথম কুমিরটিকে নদীতে ভাসতে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এরপর থেকেই মাছ ধরতে কিংবা চরে গরু-ছাগল নিয়ে যেতে সাহস পাচ্ছেন না অনেকেই।
চর ভবানীপুর গ্রামের মৎস্যজীবী দবির উদ্দিন শেখ বলেন, “মাদারতলায় মাঝেমধ্যে বিশাল কুমিরটিকে ভেসে থাকতে দেখা যায়। আমরা আতঙ্কে নদীতে নামছি না।”
চর সুজানগর এলাকার কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, “পদ্মার চরে গরু-ছাগল ঘাস খায়। এখন চরে যাওয়াতেই ভয় লাগছে।”
তবে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন। সুজানগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নুর কাজমির জামান খান জানান, “কুমির দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। নদী এলাকায় চলাচলের সময় সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।”
পাবনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী তরিকুর রহমান বলেন, “মিঠা পানির কুমির এখন খুবই বিরল। তবে পদ্মা নদীতে এখনও কিছুসংখ্যক প্রজাতি টিকে আছে। বর্ষার পানি বেড়ে যাওয়ার ফলে এই কুমিরটি ভেসে এসেছে।”
তিনি আরও জানান, “আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কুমির সাধারণত গভীর পানিতে থাকে এবং স্থায়ীভাবে কোথাও বসবাস করে না। বর্ষাকালে পানি বাড়লে মাঝে মাঝে ভেসে ওঠে।”
সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এমন বিরল প্রাণীকে সহনশীল দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।








